সুপেয় খাবার পানির জন্য হাহাকার

সুপেয় খাবার পানির জন্য হাহাকার

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম, মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিডর ও আইলা ক্ষতিগ্রস্ত মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন সুপেয় খাবার পানির জন্য হাহাকার ও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দেয় এ সংকট। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় খাবার পানির এ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানীয় জলের জন্য সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নলকূপে আর্সেনিক, অকেজো নলকূপ, সংস্কারবিহীন পিএসএফ এর কারণে এ সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি নলকূপ ও পিএসএফ অকেজো। পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্মিত শত শত নলকূপও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মোরেলগঞ্জ পৌর সদরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী সুপেয় পানির অভাবে অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলার ৩০৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশতে কোন নলকুপ নেই। আর যেগুলোতে আছে তাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ ও তত্ত্বাবধায়নের অভাবে এসব নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শত শত নলকূপের যন্ত্রাংশ ইতোপূর্বে চুরি হয়ে গেছে। একটি চোরাকারবারী চক্র এসব নলকূপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করছে। উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিউধরা, নিশানবাড়ীয়া, খাউলিয়া,বলইবুনিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে এ মৌসুমে পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্তার কারণে পুকুরের পানি পান করতে পারছে না এলাকাবাসী।

অপরদিকে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাবার কারণে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দারা দূর দূরন্ত থেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে, নৌকায় চড়ে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। অনেকে খোলা পুকুর খাল ও নদী নালার পানি পান করছে। সদর ইউনিয়ন ও পৌরবাসীকে খাবার পানির জন্য একমাত্র পুরাতন থানার পুকুরের পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাও বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে গেছে এ পুকুরের পানি এখন তলানিতে। সকাল থেকে রাতভর এ পুকুর থেকে সমান ভাবে পানি নেয়া হয়।

এছাড়াও পৌর সদরের কুঠিবাড়ি, এসএম কলেজ পুকুর থেকে ময়লাযুক্ত পানি হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ, পেটের পীড়া টাইফয়েডসহ নানান রোগে ভুগছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের সরকারিভাবে ও বেসরকারি ভাবে ৬০ টির মতন পানি ও জলের পুকুর রয়েছে। পিএসএফ রয়েছে ৮০০। এর মধ্যে ২৫০ টি চালু রয়েছে । অকেজো রয়েছে সাড়ে ৫ শতাধিক। ১০টি গভীর নলকূপের মধ্যে জিউধরা ইউনিয়নে একটি চালু রয়েছে। রেইন ওয়াটার হার্বেষ্টিং প্লান্ট রয়েছে ৯০০ টি, ৩ হাজার লিটারের। সদর ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে চালু রয়েছে একটি রিংওয়েল (পাত কুয়া)। স্যালো টিউবয়েল রয়েছে ৩ হাজার ৬ শ’ ৭০ টি। জরিপ অনুযায়ী স্যালো টিউবয়েল অকেজো রয়েছে ২ হাজারের ও বেশি। পঞ্চকরণ ইউনিয়নে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আরো জানান, আগামী বছরে পৌর সভায় একটি লবনমুক্ত প্লান্ট(আরও) বসানো হবে। ২০০৩ সালের আর্সিনিক জরিপ অনুযায়ী উপজেলা সব ইউনিয়নে কম বেশী আর্সেনিক চিহিৃত টিউবওয়েল রয়েছে। তবে বনগ্রাম ,হোগলাবুনিয়া, হোগলাপাশা ইউনিয়নের আর্সেনিক চিহিৃত টিউবওয়েল রয়েছে সবচেয়ে বেশি ও ভয়ানক আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে এ ইউনিয়নগুলো। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের হিসাবের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। তাদের হিসাব কাগুজে কলমে। উপজেলা ইউনিয়ন গুলোতে মাইলের পর মাইল হাটলেও দু’ একটি ছাড়া কোন সচল টিউবওয়েল দেখা যাবেনা। পৌর সদরের চিত্র একই।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার বলেন, আগামী বছর পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পৌর সদরে যেসব টিউবওয়েল সচল রয়েছে তার পানি থালা-বাসন ধোয়া ছাড়া পাণের অযোগ্য।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নিখোঁজ এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

তানসেন আলম, বগুড়া প্রতিনিধি :: বগুড়ার কাহালুতে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে এস এম ...