ডেস্ক রিপোর্ট : : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উজ্জ্বল নামে এক পাখি শিকারির কাছ থেকে ৪টি ডাহুক পাখি উদ্ধার করে বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে। রোববার (২ মে) শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বেতকান্দি বিলে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, পোরজনা ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের উজ্জ্বল নামের ওই পাখি শিকারি দীর্ঘদিন ধরে ফাঁদ পেতে ডাহুকসহ অন্যান্য পাখি ধরতেন। রোববার বিকেলে তিনি ৪টি ডাহুক পাখি বিক্রি করতে পোরজনা হাটে নিয়ে যান। এ সময় পাখিগুলোর মুখ টেপ দিয়ে আটকানো ছিল।

স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি দেখে পাখি কেনার কথা বলে উজ্জ্বলকে তার দোকানে নিয়ে যান। পরে সাদ্দাম বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউজ’-এর সদস্যদের জানান।

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে আমি ও ইমন পোরজনা বাজারে গিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করি। বিষয়টি টের পেয়ে শিকারি উজ্জ্বল সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরে পাখিগুলো উদ্ধার করে শাহজাদপুর উপজেলার বেতকান্দি বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে পাখি শিকার করে সেগুলো বিক্রি করে আসছে। আমি স্থানীয় যুবকদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করে আসছি। উজ্জ্বল যদি আবারও পাখি শিকার করে আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, ডাহুক মূলত জলাধারের পাখি। জলাধার, স্যাঁতস্যাঁতে এলাকার ঝোঁপঝাড় বা বাঁশঝাড়ে সাদাকালো রঙের এই পাখিটি বাস করে। অন্যান্য পাখির তুলনায় এরা বেশ সাহসী বলে মানববসতির আশেপাশে জলাধারে দিনের বেলায় কালো ছানাসহ প্রায়ই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। জলজ পোকামাকড়, ছোট মাছ, জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা, ধান ইত্যাদি এদের প্রধান খাদ্য। সাধারণত আষাঢ় থেকে শ্রাবণ মাস এদের প্রজনন সময়। প্রজননকাল বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ‘কোয়াক কোয়াক’ শব্দে উচ্চস্বরে বারবার ডাকে। ৫-৭টি ডিম পেড়ে স্ত্রী-পুরুষ ভাগাভাগি করে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২০ দিন। পাখিটি বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখনও টিকে আছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই পাখিটিকে নূন্যতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here