ব্রেকিং নিউজ

সিডরের ১২ বছর পরও এখনও মৃত্যুকূপে প্রায় তিন হাজার পরিবার

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :: সিডর ট্রাজেডির এক যুগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে। দূর্যোগ ঝুঁকি কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে বেড়িবাঁধ। কিন’ অপরিকল্পিত উন্নয়নে সেই বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এখনও মৃত্যুকূপে বাস করছে প্রায় তিন হাজার পরিবার। যারা সিডরের পর থেকে প্রতিটি ঝড়-জলো”ছাসে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এ কারনে কলাপাড়ার ধুলাসার, মহিপুর, চম্পাপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ ভাঙ্গা অরক্ষিত থাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করা পরিবারগুলো রয়েছে এখনও ঝুঁকিতে। অথচ সিডরের পর কলাপাড়ায় ২৩টি আবাসন নির্মাণ করা হয়েছিলো সহায় সম্বলহীন বেড়িবাঁধের বাইরের ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে পূণর্বাসনের জন্য। সেখানে আশ্রয় হয়েছে মাত্র ৫৪০ পরিবারের।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি পোল্ডারসহ রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া পোল্ডারের সম্পূর্ণ বেড়িবাঁ নির্মাণের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি ডিপিপি মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করলেও প্রকল্পের অনুমোদন না হওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও রয়ে গেছে মৃত্যুঝুঁকিতে।

সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালের সিডরে কলাপাড়া উপজেলায় ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার ৭৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে সাত জেলে। উপজেলায় গবাদি পশু মারা গেছে চার হাজার নয়শ ৪৪টি। ক্ষতি হয়েছে পাঁচশ ৫৩টি নৌ-যানের। ১২ হাজার নয়শ ৭০টি পরিবার হয়েছে সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আংশিক ক্ষতিগ্রস’ পরিবারের সংখ্যা ১৪ হাজার নয়শ ২৫টি।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্র মতে ২০০৭ সালের সিডরে কলাপাড়ায় ৭০ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত হয়। এরমধ্যে ২৯ কিলোমিটার পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এ বাঁধ ভাঙ্গায় জলো”ছাসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দুঃখ কমাতে লালুয়া ৪৭/৫ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ নির্মানে সরকার ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারনে এই পোল্ডারের ১০ টি গ্রাম গত সিডরের পর থেকেই প্লাবিত হচ্ছে নদীর পানিতে। একই অবস্থা কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪৬ নং পোল্ডার, দেবপুরের ৫৪/এ পোল্ডার ও মহিপুরের ৪৭/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ।

এদিকে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কলাপাড়ার ধুলাসার, লালুয়া,মহিপুর, লতাচাপলী ও চম্পাপুর ইউনিয়নে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের বাইরে সাগর ও নদীর তীর ঘেষে প্রায় তিন হাজার পরিবার বাস করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। এসব পরিবার সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পূণর্বাসন সহায়তা না পাওয়ায় এখনও রয়ে গেছে মৃত্যু ঝুঁকিতে। যদির সরকার সিডর পরবর্তী কলাপাড়ায় ৫৪৭৩ টি পরিবারকে ঘর ণির্মাণ করে দেয়া হয়েছে । ৫৪০ পরিবারের জন্য ব্যারাক হাউস নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ব্যারাকের অন্তত ২০০ কক্ষে লোকজন থাকছে না।

চর চান্দুপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা তাজনেহার, বিধবা কুলসুম ও মরিয়ম আক্তার জানায়, সিডরের পর থেকে প্রতিটি ঝড়েই তারা হারাচ্ছেন বসত ঘর। ভাঁধ ভাঙ্গা পানিতে ভাসিয়ে নিচ্ছে ঘরের মালামাল। কিন’ আমাদের নাম ঘরের তালিকায় ওঠে না। ঝড় হলেই ক্ষতির তালিকায় নাম ওঠে, ত্রান পাই এ পর্যন্ত্বই।

লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন জানান, এগারটি গ্রামের মানুষ যে কতো কষ্ট আছে তা কেউ স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এমন কোন ঝড় নেই এরা ক্ষতি না হচ্ছে। কিন্তু বাঁধ নির্মানও হয় না আর ক্ষতিগ্রস্তরা পূণর্বাসন সুবিধাও পায় না।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের তালিকা তৈরি এবং পূণর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেন-দূর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে পূণর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং পূণর্বাসনের জন্য নির্মিত ২৩ টি আবাসন মেরামতের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক বলেন- সিডরের পর যেসব বেড়িবাঁধ জরুরী মেরামত করা হয়েছিলো তা আবার ভেঙ্গে গেছে। তবে নতুন করে চারটি পোল্ডারের বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলেই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্শাণ দ্রুত শুরু হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১৫ আগষ্টের খুন ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা ...