সারোগেট মায়েদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা আবশ্যক করল ভারত

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  ভারতে যে দম্পতিরা বাবা-মা হওয়ার জন্য সারোগেসি পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান তাদের ৩৬ মাসের জন্য সারোগেট মায়ের একটি সাধারণ স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ কিনতে হবে, সম্প্রতি জারি করা সারোগেসি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিতে এমনই বলা হয়েছে। গর্ভাবস্থা থেকে উদ্ভূত সমস্ত জটিলতা এবং প্রসবোত্তর ও প্রসবকালীন জটিলতাগুলোর খরচ যাতে ঠিকঠাকভাবে হয় তার জন্য বিমার পরিমাণও যথেষ্ট হওয়া উচিত।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালকের নিয়ম অনুসারে, সারোগেট মায়ের ওপর যেকোনো সারোগেসি পদ্ধতির প্রচেষ্টার সংখ্যা তিনবারের বেশি হওয়া উচিত নয়। দেশটির মেডিকেল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৭১ অনুযায়ী, সারোগেসি প্রক্রিয়া চলাকালীন সারোগেট মাকে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সারোগেসি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২১ এই বছরের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে।

জারি করা নিয়মগুলোতে রেজিস্টার্ড সারোগেসি ক্লিনিকে নিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয়তা ও যোগ্যতার পাশাপাশি সারোগেসি ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশনের ফর্ম, পদ্ধতি ও মূল্যের উল্লেখও করা আছে। সারোগেট মায়ের সম্মতির ফর্মের বিশদও তাতে দেওয়া আছে।

নিয়মে বলা হয়েছে, ইচ্ছুক নারী বা দম্পতি সারোগেট মায়ের জন্য কোনো বিমা কোম্পানি বা বিমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী অধীনে প্রতিষ্ঠিত ও বিমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্বীকৃত কোনো এজেন্টের কাছ থেকে ৩৬ মাসের জন্য একটি সাধারণ স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ কিনবেন। বিমার অর্থের পরিমাণ এমনই হবে যাতে গর্ভাবস্থা এবং প্রসবোত্তর ও প্রসবকালীন জটিলতা থেকে উদ্ভূত সমস্ত সমস্যার খরচ বহন করা যায়।

সারোগেসি প্রক্রিয়া চলাকালীন ইচ্ছুক দম্পতি/নারীকে চিকিৎসার খরচ, স্বাস্থ্য সমস্যা, নির্দিষ্ট ক্ষতি, অসুস্থতা বা সারোগেট মায়ের মৃত্যু এবং এ ধরনের সারোগেট মায়ের ওপর হওয়া অন্যান্য নির্ধারিত খরচের জন্য ক্ষতিপূরণের গ্যারান্টি হিসাবে আদালতে হলফনামা দিতে হবে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সা চলাকালীন একজন সারোগেট মায়ের জরায়ুতে একটি ভ্রূণ স্থানান্তর করবেন।

শর্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে, সর্বোচ্চ তিনটি ভ্রূণ স্থানান্তর করা যেতে পারে। কোনো নারী সারোগেসির পথ বেছে নিতে পারেন যদি তার জরায়ু না থাকে বা জরায়ু বাদ দেওয়া হয়ে থাকে বা জরায়ু উপযুক্ত না হয়ে থাকে বা যদি গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের মতো কোনো চিকিৎসার কারণে জরায়ু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে।

চিকিৎসার কারণে একাধিকবার গর্ভাবস্থার ক্ষতির ক্ষেত্রেও কেউ এই পথ বেছে নিতে পারেন। কারও যদি এমন কোনো অসুস্থতা থাকে যাতে গর্ভাবস্থায় প্রাণহানি বা অন্যান্য ক্ষতির ঝুঁকি থেকে থাকে সে ক্ষেত্রেও সারোগেসি ব্যবহৃত হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here