সাম্য
শাহের পাঁচ কবিতাঃ
 
|| পৃথিবীতে দাস হতে আসি নাই ||
 
যুগের সুহৃদ সূর্য্য তুমি বেজে উঠো ফজরের
মাইকের মতো সুরে। কসম অগণিত নারীর
হিংসা অথবা মৃত্যুর অনুরুপ বিপরীত জীবন;
খোদা তুমি লিখে রাখো, নত হতে পারে না
আমার রক্তাক্ত অনশণ, স্বাক্ষী এই কবিতা-
‘পৃথিবীতে দাস হতে আসি নাই’।
 
যদি বাগানের সবচে সুন্দর ফুল মরে যায় মালীর
হাতে, যদি বৃষ্টি-ঝড়ে ক্ষত হয় দুপুর পোড়া রোদ
অথবা প্রেমিকার আঁচল কিংবা বালিকার বাড়ন্ত
স্তন যদি বঞ্চিত হয় যুগের সাহসি কল্লোল থেকে;
তবুও ধানি জমিনের সাহসে আমি ধনুকের মতো
বাঁকা অনড়।
 
কার্ল মার্ক্সের কসম; কসম সমাজতন্ত্রের। প্রসস্ত
এই বাংলাদেশে যতোদিন দলিত মানুষের একটি
ভ্রুণ গেয়ে উঠবে উর্বর মাটির গান ততোদিন এক
হাতে শ্রেণীশত্রুর নথিপত্র অন্য হাতে মৃত্যুর মতো
রাজসিক আয়োজনে সুষমবন্টণের এই সংগ্রামি
লড়াই চলবেই, চলবে।
 
কৃষকের ইজ্জতের কসম; কসম পূর্বপুরুষের।
এই দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যারা কৌশলে
বিজ্ঞান লেলিয়ে দিতে চায়, যারা সময় অসময়ে
কর্পোরেট দুনিয়ার দাসত্ব করে করে ইউরিয়ার
গল্প শুনায় আমাদের লাঙলের ফলা তার দিকে
তাক করা থাকলো, আমি লড়ার পক্ষে।
 
|| বিকেলের গান ||
 
আমি জানি এই লুকোচুরি এই অবহেলার
রাত্রি ঋণ। সময়ের গানিতিক নিকাশে এমন
তো ধরাবাঁধা ব্যাকরণ ছিলো না সংসারে; তবুও
প্রয়োজন ডেকে নিয়ে আসে কতো ভয় নাম না
জানা কতো সংশয়!
 
প্রেমের প্রতিজ্ঞায় ছিলো না একসাথে মৃত্যুর
মতো বড় কোন চাওয়া। বাজিকরের তুরুপের
তাসের মতো অলৌকিক কিছু নয়; নেহায়াত
অধীকার চেয়েছিলাম পাপোষের সম্মানে শুধু
আলতার পাশে বসে থাকা!
 
|| বৃষ্টি, নারী অথবা ট্রিগারের শব্দ ||
 
আহ কি বৃষ্টি শহরজুড়ে! কান্নার মতো অবিরাম
আর হিংসার মতো শীতল ত্যাজে ভেসে যায় খুনের
দাগ, অনেক ব্যথার জল। এই ঘোর লাগা কাইতানে
নারী তুমি কামিজ খুলে ফেলো, প্রেমের মতো করে
ছোঁয়ে দেখি স্তন- ফর্সা চিবুক।
 
সেই কবে, বিপ্লবের অধীকারে- আউস আমনের
গন্ধ ভুলে গিয়ে চুমু থেকে দূরে; বারুদের গন্ধ
ভালোবেসে- বন্দুকের ট্রিগারে পেতেছি সংসার!
 
এসো- খরচ করে ফেলি চুমুগুলো; এতোকাল
যেভাবে খরচ করেছি, আমাদের মানব জীবন!
 
।। কবিতা: এক ধাপ্পাবাজি গালগপ্পো ।।
 
আমি কখনোই তোমাকে লিখি নি কোন কবিতায়।
আমাকেও না। কোন ফুল লিখি নি-
পাখি বা প্রজাপতি কিংবা নদী অথবা নারী
আঁকি নি কোন শব্দের অলংকারে। অথচ
বেনারসি যৌবনা তুমি বেড়ে উঠেছো আমার প্রেমের ডগায়!
 
আমি বন্দুক চিনতাম না যদি না তোমার চোখ দেখতাম।
আমি হুংকার জানতাম না যদি না তোমার শাসন পেতাম।
আমি বঞ্চিত হতাম নন্দিত চিত্রকলা থেকে যদি না তোমার
তোমাকে ছুয়ে দেখতাম!
 
অথচ নিমকহারাম আমি-
কবিতায় লিখলাম ভোটের রাজনীতি আর সংসদ ভবনের
মতো শুয়োরের খোয়াড়! শব্দ আর বাক্যে আঁকতে চাইলাম
ইউরিয়ায় বিনষ্ট ধান ক্ষেত, ভাড়াটে লোকের মিছিল, ঋণের
টাকায় বানানো উড়াল সেতু! শালা কবি জীবন এমনি এক
বিপরীত মঞ্চের প্রতিকৃতি!
 
।। মন্দিরের আজান ।।
 
মৌসুম আসবে বলে-
আমনের চারা হাতে জমিনে কৃষক দাঁড়ানো;
সড়কে শ্রমিকের বান। কান পেতে শুনি
মুক্তির মিছিলে পূন্নি উসুলের আহবান।
এতোদিন বাদে-
জোয়াল উঠেছে কাঁধে; তাই-
ফসলের উৎসবে গ্রাম কাঁপে থরথর;
কৃষক নেমেছে মাঠে; এবার কোদালে কাটে বাতর।
কাঁটা পড়ে শালুকের স্তন, হেলেঞ্চা আর দূর্বার
শেকড়-বাকড়; প্রথম পড়েছে হাত লাঙলের বাটে;
ছোঁয়ে এসে প্রেমিকার গতর।
 
ধর্ম-বর্ণ ভেদে মানুষ এসে দাঁড়ায় মানুষের ছায়াতলে;
শোষিত দেহে রক্ত নাচন মারে উল্লাসিতো তালে।
এইতো মানুষ জন্মের পোক্ত কথা; আগামির ফরমান,
বিবেকের ভিতর বেজে উঠা মন্দিরের আজান।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here