ব্রেকিং নিউজ

সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

জহিরুল ইসলাম শিবলু,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: রামগতি-কমলনগর আসনের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সাবেক গণপরিষদ সদস্য, জাতির জনক বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত স্নেহভাজন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স এলাকার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। তিনি চার ছেলে, ছয় মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রহী রেখে গেছেন।

শুক্রবার বিকেলে কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স হাইস্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ তার জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পুলিশের একটি দল তার মরদেহে জাতীয় পতাকা রেখে সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করে। রাষ্ট্রের পক্ষে কমলনগর উপজোলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ড. আশরাফ আলী চৌধুরী শারু, বেসরকারি সংস্থা ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান গভীর শোক প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, নিজ এলাকায় তিনি সিরাজ এমপি নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লীগের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৃহত্তর রামগতি আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি একই এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় গণপরিষদ সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। সিরাজুল ইসলাম নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। রামগতি থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন তিনি। পরে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তার বাড়িতে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে তিনি ছিলেন স্থানীয় অন্যতম সৈনিক। ২৫ মার্চ কালো রাত্রীতে তিনি বাড়িতে ছিলেন। এলাকায় থাকা নিরাপদ নয় ভেবে তিনি বেগমগঞ্জ হয়ে ভারতে চলে যান। এ সময় তিনি আগরতলা যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকতেন। এ ক্যাম্পে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের অন্যান্য এমএলএ ও এমপি গণ ছিলেন। পরে ভারত থেকে মাইজদী হয়ে রামগতি আসেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকেন এবং নিজেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

সাবেক এমপি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৫ সালে কমলনগর (সাবেক রামগতি) উপজেলার চর লরেঞ্চ গ্রামে। বাবা আলহাজ্ব আমিন উদ্দিন পাটোয়ারি এবং মাতার সরাফাতুন্নেছা। তিনি ১৯৫১ সালে রামগতি বিবিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিকুলেশন, ১৯৫৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে থাকাকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন তিনি। তিনি উক্ত কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণও করেন। কারাগারে থেকেই আইএ পরীক্ষা দেন তিনি। ১৯৫৪ সাল থেকে দৈনিক ইত্তেফাকে নোয়াখালী সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলি দেখার জন্য পাকিস্তানের করাচী যান। সেখানে তার সাথে বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রথম পরিচয় হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার সারথি হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম ...