ব্রেকিং নিউজ

সাবেক এমপি, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আর নেই

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: রামগতি-কমলনগর আসনের সাবেক গণপরিষদ সদস্য এবং সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, জাতির জনক বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত স্নেহভাজন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স এলাকার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…. …রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও ছয় মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রহী রেখে গেছেন।

নিজ এলাকায় তিনি সিরাজ এমপি নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লীগের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৃহত্তর রামগতি আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি একই এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় গণপরিষদ সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। সিরাজুল ইসলাম নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। রামগতি থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন তিনি। পরে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তার বাড়িতে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে তিনি ছিলেন স্থানীয় অন্যতম সৈনিক। ২৫ মার্চ কালো রাত্রীতে তিনি বাড়িতে ছিলেন। এলাকায় থাকা নিরাপদ নয় ভেবে তিনি বেগমগঞ্জ হয়ে ভারতে চলে যান। এ সময় তিনি আগরতলা যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকতেন। এ ক্যাম্পে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের অন্যান্য এমএলএ ও এমপি গণ ছিলেন। পরে ভারত থেকে মাইজদী হয়ে রামগতি আসেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকেন এবং নিজেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

সাবেক এমপি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৫ সালে কমলনগর (সাবেক রামগতি) উপজেলার চর লরেঞ্চ গ্রামে। বাবা আলহাজ্ব আমিন উদ্দিন পাটোয়ারি এবং মাতার সরাফাতুন্নেছা। তিনি ১৯৫১ সালে রামগতি বিবিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিকুলেশন, ১৯৫৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে থাকাকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন তিনি। তিনি উক্ত কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণও করেন। কারাগারে থেকেই আইএ পরীক্ষা দেন তিনি। ১৯৫৪ সাল থেকে দৈনিক ইত্তেফাকে নোয়াখালী সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলি দেখার জন্য পাকিস্তানের করাচী যান। সেখানে তার সাথে বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রথম পরিচয় হয়।

তার মৃত্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ড. আশরাফ আলী চৌধুরী শারু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কম্বল দেওয়া হলো মেহেরুননেছা বৃদ্ধাশ্রমে

মো. রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ...