সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের সংস্কার কাজ গত চার মাস ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে দিনদিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ৫ বছর ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে সরকারের। অথচ সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোন প্রকার মাথা ব্যথা নেই। মংলা পোর্টের সাথে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় আমদানী-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভোমরা স্থল বন্দর থেকে পণ্যবাহী পরিবহনগুলি গত কয়েক বছর ধরে প্রায় ৭০-৮০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যশোর হয়ে মংলা পোর্টসহ দেশের উত্তর, পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারের অন্যান্য খাতের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশার কারণে মাঠে মারা যাচ্ছে। সড়ক সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। চলতি বছর প্রথম দিকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও জলাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গত চার মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির জরুরী সংস্কার কাজ করার নামে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হরিলুট হয়েছে। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার কাজ গত ফেব্রয়ারী মাস থেকে শুরু হয়। চট্টগ্রামের মেসার্স তাহের এন্ড ব্রাদার্স প্রায় ১৮ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দের একাজটি টেন্ডার পায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুর রহিম জানান, চলতি বছর সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তবে গত তিন মাস আগে অতিবর্ষণের কারণে সড়কের দু’পাশে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে কাজটি বন্ধ রাখা হয়। প্রায় ৪ কিলোমিটার এ সড়ক সংস্কারের সাথে ৭টি কালভার্ট নির্মাণ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া আরও তিনটি কালভাটের্র আংশিক কাজ করা হলেও বাকী আরেকটি কালভাটের্র কাজ এখনও শুরু হয়নি।সরেজমিন গতকাল নওয়াপাড়া নামক স্থানে গিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা পাওয়া যায়নি। বাসচালক সাতক্ষীরার আমিরুল ইসলাম, চুকনগরের সাইফুল ইসলাম, পথচারী সুভাষিনী গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা আরিফা বেগমের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করতে হয়।এ দুর্ভোগ আর কতদিন চলবে এমন প্রশ্ন তুলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে বলেন, প্রতিদিন খুব ভোরে সাতক্ষীরা থেকে তাকে খুলনায় যেতে তার এক ঘন্টার পথ ৩-৪ ঘন্টা লাগে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটির উপর নৌকায় যাতায়াত করলেও নওয়াপাড়া স্কুলের এক শিক্ষক জানান, এখন সে ব্যবস্থা নেই তবে ভোগান্তির অন্ত নেই। গত ৫ বছর মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করতে আর কত সময় নেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এমন প্রশ্ন কুমিরা, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের মানুষেরও। বিগত জোট সরকারের দুই বছর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক বছর এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হতে চলল কিন্তু মির্জাপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কটি উন্নয়ন কাজ সঠিক তদারকি না করার কারণে শেষ হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে। তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম জানান, এলাকার সংসদ সদস্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অথচ তার নির্বাচনী এলাকায় সড়কের এমন বেহালদশায় জনগণ উদ্বিগ্ন।।তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ  সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার জানান, বিগত বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারের আমলে নওয়াপাড়া থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। পরে তা’ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এরপর তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রায় এক বছর সড়কটির উন্নয়নে কোন কাজ হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সড়কটি উঁচু করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ না করে কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে মানুষের ভোগান্তি প্রতিদিন বাড়ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় গতকয়েক মাস আগে অতিবর্ষণে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে সড়কে পানি না থাকলেও চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, নওয়াপাড়া সড়কের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে যেভাবেই হোক দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। তিনি জানান, বর্ষার কারণে কাজটি মাঝপথে বন্ধ ছিল। তবে তিনি কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান। এছাড়া বিনেরপোতা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৮শ’ মিটার রাস্তার সংস্কার কাজ করতে আগামী ১০ ডিসেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সড়কের কাজ করতে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান এমপি জানান, বর্ষার কারণে মির্জাপুর, নওয়াপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি দ্রুত কাজ শেষ করা হবে বলে জানান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত সাতক্ষীরা জেলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/নাজমুল হক/সাতক্ষীরা

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here