সাতক্ষীরায় সদ্য সাবেক দুই ছাত্রলীগের নেতার অতিষ্ট প্রশাসন

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি শেখ জুয়েল হাসান শিক্ষককে মারধরের মামলায় ২ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামী। সাধারণ সসম্পাদক নাজমুল হুদা পলাশের বাড়ি থেকে ক্রসফায়ারকৃত চরমপন্থীকে আটক করা হয়। সাতক্ষীরায়  নৃত্য শিল্পী ধর্ষন  প্রচেষ্টার মামলার আসামী সদ্য বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারন সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। জেলার সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খোদ পুলিশের কর্মকর্তারা সব সময় ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার আতংঙ্কে থাকতেন।

একাধিক নিভর্রযোগ্য সূত্র জানায়, ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগের কতিপয় শীর্ষ নেতার আস্কারা পেয়ে এবং ছাত্র সংগঠনের বড় পদে থাকার কারনে জুয়েল ও পলাশ এক বছরের অধিক সময়ের ব্যবধানে এহেন কোন অপকর্ম নাই যা তারা করেনি। সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খোদ পুলিশের কর্মকর্তারা সব সময় ওই দু‘ছাত্রলীগ নেতার আতংঙ্কে থাকতেন। পুলিশ কনষ্টেবল পদে নিজদের পছন্দের প্রর্থীর চাকুরি না হওয়ায় জুয়েল ও পলাশের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করার পর শহরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করার কারনে জেলার সর্বত্রই দ্রুত তাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। জেলার সর্বচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা অবশেষে চাকরি দিতে না পারলেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে জুয়েল ও পলাশকে শান- রাখে। এর পর থেকে জেলার ৮ থানার ওসিরা ছাত্রলীগের দুই নেতার কাছে প্রায় অসহায় হয়ে পড়ে। বেড়ে যায় বিভিন্ন সেক্টরে তাদের দু’জনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম। নারী কেলেংকারীর মত ঘটনা থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যা তারা দু’জনে করেনি। ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ও নাজমূল হুদা পলাশের অপকর্ম খুজতে বেরিয়ে আসে বিচিত্র সব অজানা কাহিনী। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, জুয়েল ও পলাশ ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের খুশি করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ২০১০ সালের ১৯ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে তিন সদস্যের একটি জেলা কমিটি করে নিয়ে আসে। কেন্দী্রয় ছাত্রলীগ ঘোষিত তিন সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটির দায়িত্ব পান সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারন সম্পাদক নাজমুল হুদা পলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সাইফুল আযম জিমিকে। সে সময় সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রীয় ভাবে এধরনের কমিটি ঘোষনা হওয়ার পর থেকে তিন সদস্যের কমিটি বাতিল ও সম্মেলনের মাধ্যমে তৃনমূল নেতা কর্মিদের মতামত নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি করার দাবীতে সাতক্ষীরায় নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও সাধারন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এমনকি তৎকালিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নামে সাতক্ষীরায় আদালতে মামলা করে বিক্ষুব্দ ছাত্রলীগ নেতারা। বর্তমানে আদালতে মামলাটির কার্যক্রম চলছে। এদিকে তিন সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি কার্যক্রম চালাতে স্বৈরচারী পন্থা অবলম্বন করে জুয়েল ও পলাশ। তারা একে একে জেলার সাতটি উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গুলো সম্মেলন ছাড়াই বাতিল করে। তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নতুন নতুন কমিটি করা শুরু করে। ফলে অছাত্র ও মাদকাশক্ত এবং একাধিক বিতর্কীত ব্যক্তিরাই ছাত্রলীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ন পদে চলে আসে। জুয়েল ও পলাশের এসব ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতারা বিব্রতকর অবসস্থার মধ্যে পড়ে যান। অনেক স’ানে জেলা ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মিছিল, মানববন্ধন, কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের কাছে স্বারক লিপিদিয়ে প্রতিকার চান তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতারা। আর এই ছাত্রলীগের বিতর্কীত কর্মকান্ডের সেল্টার দেয়া না দেয়া নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে শুরু হয় গ্রুপিং।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/নাজমুল হক/সাতক্ষীরা

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট:: দুস্থ শিল্পীদের সহায়তা, তহবিল গঠন ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ...