স্টাফ রিপোর্টার :: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পাক্ষিক অনন্যার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু (৬৯) আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

তিনি রবিবার (১৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার রুহের শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন গুণী এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বেগম পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে তার সাংবাদিকতা শুরু হয়। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সোমবার তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে লালমাটিয়ায় তার নিজ বাসভবনে ভিড় করে বন্ধু-আত্মীয়-পরিজনরা। বাদ জোহর লালমাটিয়ার বিবি মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে রাখা হয়। সেখানে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে জুরাইনে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। ইডেন কলেজে পড়াশোনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন। ১৯৭৪ সালে ‘বেগম’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি যোগ দেন ‘পাক্ষিক অনন্যা’য়। দীর্ঘ ২৫ বছর পাক্ষিক ‘অনন্যা’য় তিনি নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘অনন্যা’ আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

দিল মনোয়ারা মনুর স্বামী শামসুল হুদা ভূমি অধিকার ও সংস্কার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here