মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধি ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বউ রেখে আবারো বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের জামাল মিয়ার মেয়ে তানজিনা বেগম তার স্বামীর বিরোদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর শাখাইতি এলাকার মিরাজ আল ছেলে আলী হোসেন (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের জামাল মিয়ার মেয়ে তানজিনা বেগমের। তানজিনা বেগম আলী হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। এর আগেও সদর উপজেলার নন্দন পুর এলাকায় প্রথম বিয়ে করে আলী হোসেন। যা গোপন রেখেছিল আলী হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন। তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে পরে তানজিনা বেগম কে ৩ লক্ষ টাকার কাবিননামায় বিয়ে করেন আলী হোসেন । বিবাহ তাদের বিয়ে হয় গত ২৩ জুলাই ২২।

ভুক্তভোগী তানজিনা বেগম বলেন, তার স্বামী আলী হোসেন, শাশুড়ী শিরিনা বেগম(৫০) ও তার দেবর জীবন মিয়া(২২) তাদের সাথে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে তাকে বিয়ে করে । ইসলামি শরিয়া মোতাবেক গত ২৩ জুলাই ২২ইং তারিখে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবারের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নগদ ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে নেয়।

পরে আলী হোসেন তার মা ও ভাইয়ের প্ররোচনায় তানজিনাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয়। এর জন্য শশুর বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক চাপ দিতে থাকে। গত (০৪ সেপ্টেম্বর) তানজিনা কে তার বাবার বাড়ি থেকে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয় তার স্বামী, শাশুড়ী ও দেবর। পরে সে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। তার সাথে ঘর সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এর ফাঁকে আলী হোসেন তানজিনা বেগম কে না জানিয়ে তৃতীয় বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে অন্যত্র চম্পট দেয়। আলী হোসেন বর্তমানে অন্যত্র পালিয়ে বিদেশ যাওয়ার পায়তারা করছেন বলেও ভুক্তভোগী ।

এবিষয়ে তানজিনা বেগম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ আদালতে তার স্বামী আলী হোসেন, দেবর জীবন মিয়া ও শাশুড়ী শিরিনা বেগম কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর সি আর ১৪৩৩/২২ইং।

আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাদের নামে ওয়ারেন্ট জারী করে আদালত । বর্তমানে আসামি পলাতক রয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here