নাঈম মৃধা, জবি প্রতিনিধি ::
রোজা মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান। শেষ রাতে সেহরির পর দিনশেষে ইফতার পরম আনন্দের মুহূর্ত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইফতার আয়োজন অনেকটাই ভিন্ন। রমজানে প্রতিদিন পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় ইফতারির প্রস্তুতি। খোপে খোপে বসে ক্যাম্পাসে ইফতারের প্রস্তুতি নেয় জবি শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বরে জমে উঠে ইফতারের আয়োজন। ক্যাম্পাসের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে বা বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ব্যতিক্রম নয় প্রগ‌তিশীলতা, অসাম্প্রদা‌য়িকতা ও নির‌পেক্ষতা এই মূল মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবও। প্রতিদিনই স্বল্প পরিসরে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দিন শেষে সবার সাথে একত্রে ইফতারের আয়োজন করে।
জবি প্রেসক্লাবের সকল সদস্যের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সৌহার্দ্য সম্প্রতির মেলবন্ধনে প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে উঠে ইফতার আয়োজন। রোজা শুধু মুসলমানদের ইবাদাত হলেও এদের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন অন্য ধর্মাবলম্বীর সদস্যরাও। ইফতারের পর সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদ কাটাতে আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে জবি প্রেসক্লাবের কার্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের ৪০৪ নং কক্ষে ছোট এই ইফতারের আসরে প্রতিদিন আনন্দমুখর হয়ে উঠে। এ যেন এক আত্মিক মিলনমেলা।
সচারচার তাদের ইফতারির মধ্যে থাকে মুড়ি, আলুর চপ, পিয়াজু, ডিমের চপ, জুস, বেগুনি, জিলাপি, শরবত, খেজুর, বুন্দিয়া, নানা রকম মৌসুমি ফল-ফলাদি। এছাড়াও থাকে পুরান ঢাকার খাবারের কোনো বিখ্যাত পদ। এছাড়াও গত ১৯ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় জবি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জ‌বি প্রেসক্লা‌বের সভাপ‌তি মোস্তা‌কিম ফারুকী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সকলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি অন্যতম উপায় ইফতার। আমরা প্রায় প্রতিদিনই স্বল্প পরিসরে হলেও সকলে একসাথে ইফতারের আয়োজন করার চেষ্টা করেছি।
এছাড়াও প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমাদের ইফতার এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আরমান হাসা‌ন বলেন, জবি প্রেসক্লাবের সদস্যরা প্রতিদিন একসাথে ইফতারের সবকিছুর আয়োজন করেন। এরপর সকলে মিলে একসঙ্গে ইফতার করেন। এতে সবার মাখে ভাতৃত্ব বজায় থাকে। ভবিষ্যতেও আমাদের এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমি আশা করবো জবি প্রেসক্লাবের সাথে যারা জড়িত তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করবে। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে জড়িত, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত তাদেরকে সহযোগিতা করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এ চেতনায় পরিচালিত হবে। আশা করি জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। তাঁরা সত্যটাকে সামনে নিয়ে আসবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের জায়গা খুবই কম। আমরা ভবিষ্যতে নতুন ক্যাম্পাসে একটা প্রেস কর্ণার করবো। যে আদর্শ নিয়ে জবি প্রেসক্লাব যাত্রা শুরু করেছো, সেই আদর্শ ধারণ করবা এবং সেই আদর্শ মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। আর আমাদের যে ভুল গুলো থাকে তা ধরিয়ে দিবে, যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারি।
প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরাও আমাদের ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার কাজ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সময়ে সুন্দর এ আয়োজনের জন্য উপাচার্য জবি প্রেসক্লাবকে ধন্যবাদ জানান এবং ভালো কাজের জন্য অবশ্যই পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
💝
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here