সব কিছুর মূলে নারী !

জুঁই জেসমিন

লেখক- জুঁই জেসমিন

জুঁই জেসমিন :: যুবকেরা খুব আতংকিত বিয়ে করা ব্যাপারে ? হ্যাঁ একদম তাই, রিফাত হত্যার ঘটনাতে অসংখ্য যুবকের ভারী ভাবনা, বর্তমান সমাজে মেয়েদের একাধিক বয় ফ্রেন্ড। যেই মেয়েটিকে আজ বা কাল বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসবে, রিফাতের মতো তারও যে মৃত্যু ঘটবে না তার কি নিশ্চয়তা?

এখন প্রশ্ন একজন ছেলে সন্ত্রাসী কেন হয়, কেন সে খুনি হয়? ভাবা জরুরী- খারাপ কিন্তু কেউই হতে চায় না। পাপীরাও পাপকে ঘৃণা করে, তা জানা সত্তেও কেন কি কারণে ভয়ংকর হয়ে উঠে সন্ত্রাসী নামে ওরা।

একটি ছোট্ট ঘটনা বলি, চার বছর পূর্বে পরিবার পরিকল্পনার এক প্রজেক্টে জীবন যাত্রার মান নির্ণয়ের জন্য সিলেট, চট্টগ্রাম , কক্সবাজারসহ বান্দরবান পর্যন্ত যাই সাতজন মিলে আমরা । আমাদের দলের মধ্যে দুজন পুরুষ ছিলেন, তার মধ্যে একজন সুপারভাইজার। বাকি পাঁচজন মেয়ে, তিনজন ছিলো খুব স্মার্ট ও খুব সুন্দরী, তার মধ্যে লাকি বেশ পর্দানশীন, শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজ আদায় করতো। লাকির চলাফেরা কথাবার্তা সবাইকে মুগ্ধ করে! সিলেটের ‘পাঁচভাই’ নামক হোটেল থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে যখন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হই- লাকি চাপা জিন্স পেন্ট আর ফতোয়া পরে বের হয়। আমরা অবাক হই, তার পোশাক দেখে। সুপারভাইজারকে মিষ্টি মিষ্টি সুরে বলতে থাকে, “ভাইয়া আমার খুব সুন্দর করে সব ছবি তুলবেন কিন্তু । ” ক্রমশ, গুটি কয়েক দিনের মধ্যে সুপারভাইজার তার প্রেমে পড়ে ফাগুনফুলে ভাসে। প্রেমে পড়াই স্বাভাবিক এতো সুন্দর দেখতে লাকিটা।

যা হোক একসাথে খাওয়া, একসাথে সমুদ্র সৈকতে গোসল করা, গাড়িতে একসিটে লম্বা জার্নিতে যাতায়াত, সব মিলে তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন হানিমুনে আসা হয়েছে। যেই লাকির মাথায় হিজাব দেখি ট্রেনিং সেমিনারের দিনগুলোতে, বান্দরবান, নীলগিরি, নীলাচলে তার গলায় ওড়না পেঁচানো আর পুরো বুক উদম আকডুম বাকডুম । বাড়ি ফেরার সময় আবার বোরকার মধ্যে নিজেকে ঢেকে ফেলে। মেয়েটা যাবেদ ভাইয়ের কাছে এতো বেশি কেনাকাটা করে নেয় ভাবার বাইরে। এক মাসের টুর থেকে যখন ঢাকায় আসি, দুদিন বাদেই জাবেদ ভাই আমায় ফোন দেয় লাকির ব্যাপারে। লাকি নাকি ভাল করে কথা বলেনা, ফোন ধরেনা, ব্যস্ততা ভাব দেখায়, একবস্তা অভিমান মিশ্রিত অভিযোগ । লাকির সাথে আমি এক বিছানায় ঘুমিয়েছি সে রোজ রাতে তার কোন এক স্যারের সাথে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলতো। যাহোক শেষমেশ লাকিকে ফোনেও পর্যন্ত পায়নি জাবেদ ভাই।

তার মানে লাকি অন্য সিম ব্যবহার করে। জাবেদ ভাই একরকম পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। লাকির স্মৃতি তার দুচোখ জুড়ে হৃদয় ঘিরে, এতোটা লাকিকে ভালবেসে ফেলেছিল। বেচারা আর অনার্স ফাইনাল দিতে পারেনি, সেই থেকে জাবেদ আর জাবেদ নেই! গ্রাস করে নিয়েছে লাকি তার সোনালি স্বপ্নিল জীবন।

এখন আপনারাই বলুন এমন জাবেদরা সন্ত্রাস হবে, নাকি মানুষ হবে? নাকি বলবেন কাউকে ভালোবাসা পাপ বা অন্যায়- কোনটি ? 

রিফাত হত্যাকারী নয়ন ‘সন্ত্রাসী’, নয়ন মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী, অনেক মেয়েকে উত্তপ্ত করে, মানলাম। আমার প্রশ্ন এতো মেয়ে বাদে এক বিবাহিতা নারী মিন্নির পিছনে কেন লাগলো? একজন মানুষের মধ্যে কতটা রাগ কতটা ক্ষোভ থাকলে ভয়ংকর হয়ে উঠে? প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন করতে পারে? ভিডিও চিত্রে যে এলোপাথাড়ি ভাবে রিফাতকে কোপ মারা হয় এর মধ্যে মিন্নি কেন ক্ষত হয়নি বিন্দু মাত্র-? পুরোটা সাজানো পরিকল্পনা ছিলোনা তো- শুধু মাত্র রিফাতকে শেষ করার?

একমাত্র আসল রহস্য মিন্নিই বলতে পারে! ভাবছেন আমি খুনিদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছি? মোটেও না, সবাই যা ভাবছেন আমিও তাই ভাবছি, কতটা অমানবিক হলে এমন কাজ করতে পারে ? তাও আবার প্রকাশ্যে! সমাজে এমন কিছু নারী তাদের বিলাসিতা এবং সোসাইটি মেইন্টেইনের জন্য, কেরিয়ারের জন্য- চায় অঢেল অর্থ আর আর এসবের জন্য প্রয়োজন একগুচ্ছ টাকাওয়ালা পুরুষ ক্ষমতাধারী পুরুষ। আবার ভাল সুন্দর স্বামীও লাগে। এতো মিষ্টতা এতো মধুরতা দেখে মনেই হবেনা এই নারীরা এতো ছলনাময়ী।

কেন এমন করে বুঝিনা-! আজ এই রমণীদের জন্যই জাবেদের মতো পুরুষরা ধর্ষক হয়ে জন্ম নিচ্ছে বাংলার মানচিত্রে। শুধু তাই নয় পরিবারে দেখছে কলহ, বাবা মায়ের মাঝে দেখছে বিচ্ছিন্নতা দেখছে তাদের পরকীয়া- কি করে সন্তান ভাল হবে? সন্ত্রাস কারা বানাচ্ছে? কাদের জন্য হচ্ছে খুনি ধর্ষক অপরাধী? ভাবুন তবে। পুরুষেরা সব কিছুর বিনিময়ে চায় নারীর সেবা সোহাগ আর দেহ। আর নারীরা চায় অর্থ ! তা না হলে ভাবুন একজন সত্তর বা আশি বছর বয়সী পয়সাওয়ালার ঘরে কিশোরী বউ কেন? বুড়োকে দেখে বিয়ে করে কি? নাকি বিয়ে করে তার সম্পদ দেখে? নিশ্চয় সম্পদ দেখে।

সমাজে শত সহস্র বেকার যুবক বউ পায়না, বিয়ে করতে পারেনা, আর পয়সাওয়ালা বুড়োরা কচি মেয়েকে বউ করে নিয়ে নন্দনপার্কে নাগর দোলায় দোলে। বিচার নাই দেশে! এ ব্যপারে জনগণের বেশ হুলিয়া, শ্লোগান। কোন বিচার হবে, কিসের বিচার হবে ? বাপের সম্পত্তি ডিস্কো নারীদের পেছনে শেষ করে দুভাগ, আর খুন খারাপি করে ধরা পরে প্রশাসনকে খাওয়ায় অবশিষ্ট। বিচার করা আর কী লাগে? কেন দিন দিন অপকর্ম চলছে কেন খুন হচ্ছে, কেন ধর্ষণ হচ্ছে, কেন হচ্ছে সন্ত্রাসী- কাদের জন্য হচ্ছে, কারা বানাচ্ছে?

মাদকদ্রব্য ব্যবসার বড় হাত কাদের, সমাজের ক্ষমতাবান সাহেবরা, না সাধারণ মানুষ? এর গোড়া জানা দরকার এবং সচেতন মূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সমাজে যা কিছু ঘটছে, ফাটছে, ফুটছে, জ্বলছে, পুড়ছে, সব কিছুর মূলে নারী। নারীদের যা অধিকার দেওয়া হয়েছে তা সঠিক মূল্যে তারা কাজে না লাগিয়ে পুরুষদের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করে পুরুষদেরকেই অপরাধী বানিয়ে সমাজে কলংকিত করে চলছে।

 

 

মানবাধিকার কর্মী, ঠাকুরগাঁও। jui.jesmin306@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সার্বজনীন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

এএইচএম নোমান :: প্রেম নিরন্তর, প্রেম ঐশ্বরিক। লাইলী মজনু, ইউসুফ জোলেখা, শিরি ...