ব্রেকিং নিউজ

সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর কাজটি আসলেই প্রসংশার দাবী রাখে: মো: সোয়েব মেজাহউদ্দিন

লেখক একজন ফ্রিলেন্স সাঙবাদিক

[email protected]

সম্প্রতি প্রায় সকল পত্রিকার একটি বিজ্ঞাপন বেশীরভাগ মানুষের চোখে পরেছে যা বীমা জগতের জন্য একটি মাইল ফলক।  আর তা হচ্ছে সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর দ্রুত বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর। যেখানে আমাদের এই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বীমা করার পর বীমা দাবী আদায়ের জন্য কতিপয় বীমা কোম্পানীর দ্বারে দ্বারে ঘুরে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে বীমা করার প্রতি আগ্রত  হারাচ্ছ। সেখানে এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই বীমার টাকা দাবী করার পূবেই সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী বীমার মুত্যুও দাবীর চেক হস্তান্তর করেছে যা সত্যিই প্রসংশার দাবী রাখে । আমি সাধুবাদ জানাই্‌ সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর কর্তৃপক্ষকে।

দ্ব    আমি একটি বিদেশী কোম্পনীতে কর্মরত ছিলাম, সেই কোম্পানীর এক বিদেশী কর্মকর্তা জনাব এড্রিয়ান বেইন বাংলাদেশে আসার পর হঠাৎ অসুস’্য হয়ে পরলেন। আমার বাংলাদেশী কান্ট্রি ম্যানেজার জনাব আনোয়ার হোসেন তাৎক্ষনিক তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালেন নিয়ে গেলেন। আমিও পরে হাসপাতালে গেলাম। হাসপাতাল কর্তপক্ষ বললেন তার ষ্ট্রক করেছে। কান্ট্রি ম্যানেজার বিষয়টি লন্ডনের  অফিসে জানালেন এবং বিদেশী কর্মকর্তা জনাব এড্রিয়ান বেইন এর অনুমতি ক্রমে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করলেন। তার চিকিৎসা শেষে তিনি তার চিকিৎসার সকল খরচেন একটি ভাউচার এবং চিকিৎসকের সনদ লন্ডনের একটি বীমা কোম্পানীর কাছে ফ্যাক্স করে এবং কুরিয়ার করে ফটোকপি পাঠালেন। পরে জানতে পারলাম লন্ডন যাওয়ার সাথে সাথেই লন্ডনের বীমা কোম্পানী তার সকল দাবী পরিশোধ করেছে।
দ্ব    সমপ্রতি আমার একটি মোবাইল হারিয়ে যায়। কথা প্রসঙ্গে আমি বিষয়টি আমার লন্ডনের এক বন্ধুকে জানাই, সে আমাকে প্রশ্ন করলো, মোবাইলের বীমা করা আছে কিনা। আমি তার প্রশ্ন শুনে অবাক হলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমরা কি বিদেশে মোবাইল এর ও বীমা কর, সে বলল হ্যা। আমরা প্রতিটি ব্যবহারিক পন্য কেনার সময় বীমা করি। যাহাতে হারিয়ে গেলে বীমা কোম্পানী এর দ্বায় পরিশোধ করে।

আমি এক সময় একটি বীমা কোম্পানীর ফিল্ড অফিসার ছিলাম। প্রশিক্ষন গ্রহণ করার পর যখন গ্রাহকের কাছে বীমা করা অনুরোধ করতাম তখন একটি অভিযোগ প্রায়ই শুনতাম তাহলো বীমার টাকা ঠিকমত গ্রাহকের নামে কোম্পানীতে জমা হয় না। তাই তারা নিয়মিত কোম্পানীর কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। কোন বোনাস পায় না। এর কারন হচ্ছে কতিপয় মাঠ কর্মকর্তা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন। কোম্পানীর হিসাবে টাকা জমা করেন না। আর এর ফলে মেয়াদ শেষে গ্রাহক তার টাকা চাইতে গেলে বা গ্রাহক কোন প্রকার দূর্ঘটনার স্বীকার হবার পর, বীমা দাবীর জন্য আবেদন করলে তাকে বছরের পর বছর প্রথমে বীমা কোম্পানীর শাখা কার্যালয়ে পরে প্রধান কার্যালয়ের ধরনা ধরতে হয় এবং শুনতে হয় তিনি নিয়মিত টাকা জমা দেন নাই। আর গ্রাহকের দাবী, তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেছেন। বিষয়টি হলো গ্রাহক নিয়মিত টাকা জমা দেয়ার পর ও মাঠ কর্মকর্তা গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমা করেনি, তাই বীমা কোম্পানীর পক্ষে বীমা দাবী পরিশোধ করা সম্ভব হয়না। এর ফলশ্রুতিতে বীমা কোম্পানীগুলোর সুনাম নষ্ট হয়। আমাদের দেশের গুটি কয়েক বীমা কোম্পানী রয়েছে যারা গ্রাহকের বোনাস এবং বীমা দাবী নিয়মিত পরিশোধ করেন। আর বেশীর ভাগ লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন। বিশেষ ঐ সকল জীবন বীমা কোম্পানীর ফিল্ড কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সঠিক তথ্য না দিয়ে বীমা করায়। যার ফলে পরবর্তিতে গ্রাহক দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমুক্ষিন হয়। যদিও বর্তমানে অনেক বীমা কোম্পানী গ্রাহককে তার টাকা কোন কর্মকর্তাকে না দিয়ে ব্যাংকের কোম্পানীর হিসাবেম জমা দেয়ার পদ্ধতি চালু করেছে। এবং টাকা জমা হবার পর মোবাইলের মাধ্যমে তা জানতে পারছে। এটি বীমা জগতের জন্য সুভ সংবাদ।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে বীমা শিল্প অনেক সমৃদ্ধ। কিন’ আমাদের বীমা শিল্প অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। এ পিছিয়ে থাকার পিছনে আমরা যারা প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত তারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। আশান্বিত হওয়ার বিষয় এই যে, সরকার কর্তৃক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অত্যন- দৃঢ়তা ও দক্ষতার সাথে বীমা শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে একে একে তা দূরীভূত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্যারিফ রেইট চেয়ে কম রেইটে ঝুঁকি গ্রহণ এবং প্রিমিয়াম গ্রহণ ব্যতিরেকে বীমা ডকুমেন্ট ইস্যু করার প্রবনতা রোধ/বন্ধ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন। গৃহীত এ পদক্ষেপ দুটি বাস-বায়নে বীমা কোম্পানী সমূহ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) অত্যন- আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে এসেছে। এতে করে বীমা কোম্পানীসমূহ লাভজনক হচ্ছে এবং ক্রমশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ও চাই সকল বীমা কোম্পানী স্বচ্চতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে বীমা কোম্পানীর সুনাম বজায় রাখবে। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর মত গ্রাহকের বীমা দাবী দ্রুত পরিশোধ করে মিডিয়ার মাধ্যমে জনগনকে অবহিত করা উচিত।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের দোয়া মাহফিল 

ঢাকা :: গতকাল ১৮ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ ...