সন্তানের দুধ কেনার টাকা না দেওয়ায় শাশুড়িকে খুন

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  সন্তানের দুধ কেনার জন্য গচ্ছিত দুই হাজার রাখা ছিল আলমারিতে। চাবি না দেওয়ায় পুত্রবধূ শাশুড়ির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির শুরু করেন। এ সময় শাশুড়ি নাজনীন বেগম পুত্রবধূকে হত্যার জন্য ছুরি বের করেন। পরে পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তার লাবণ্য ছুরি কেড়ে নিয়ে শাশুড়িকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে যান।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বরিশালের বাকেরগঞ্জ আমলি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এসব কথা বলেন অভিযুক্ত পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তার লাবণ্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সত্যরঞ্জন খাসকেল। তিনি জানান, অভিযুক্তর দুগ্ধপোষ্য ছয় মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকেও মায়ের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে করেছেন বলে ধারণা করে পরিদর্শক বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আর কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও স্বামীর অব্যাহত অবহেলা ও শাশুড়ির অত্যাচারে এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন লাবণ্য। অভিযানিক দল যখন লাবণ্যকে গ্রেপ্তারে যায়, তখন তিনি জায়নামাজে বসা ছিলেন। তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

আদালতের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, লাবণ্যর স্বামী উজ্জল হাওলাদার ঢাকায় একটি চশমার দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি ধরা পড়লে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে উজ্জল বাড়িতে আসেন। তখন এসব বিষয় নিয়ে কথা উঠলে ৮ মে লাবণ্যকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী ও শাশুড়ি। ১০ মে আবার ঢাকায় চলে যান উজ্জল।

এরপর প্রতিদিন উজ্জলকে ফোন করতেন লাবণ্য। শাশুড়ির কাছেও জানাতেন তার ছয় মাস বয়সী সন্তান মুজাহিদুল ইসলামের দুধ কেনার টাকা নেই। কিন্তু স্বামী ও শাশুড়ি এতে কোনো গুরুত্ব দেননি। বুধবার (১১ মে) সন্ধ্যায় শাশুড়ির কাছে আসেন লাবণ্য। আলমারির চাবি চান। শাশুড়িকে জানান, আলমারিতে দুই হাজার টাকা আছে তা নিয়ে ছেলের জন্য দুধ কিনবেন। কিন্তু শাশুড়ি চাবি দিত রাজি হননি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে শাশুড়ি পুত্রবধূকে হত্যার জন্য ছুরি নেন। সেই ছুরি কেড়ে নিয়ে শাশুড়িকে উপর্যুপরি কুপিয়ে চলে যান লাবণ্য।

পরিদর্শক বলেন, শাশুড়ির গলায় দুটি ও বুকে তিনটি ছুরির কোপ ছিল। ছুরির আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামে রক্তাক্ত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে উজ্জল বাদী হয়ে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here