শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা

শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে  নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাজহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা গুলোর চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তাদের পদ-চারণায় মুখর হয়ে ঊঠেছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ।

লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় আগামী ২৪মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৮জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৯জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ৬৩জন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে উপজেলা গুলো। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। প্রার্থী, তাদের সর্মথক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পদ-চারণায় এখন মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলার প্রতিটি উপজেলা। পোষ্টারে-পোষ্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার গ্রামীণ জনপদ, পাড়া-মহল্লা ও অলি-গলি। প্রার্থীরা ছুটে চলেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। জয়লাভের আশায় ও ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা। চলছে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, কর্মী সমাবেশ, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হড্ডা-হাড্ডি লড়ায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটার এবার দেখে শুনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার কথা বলছেন। দলমত নির্বিশেষে যিনি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে, যার অতিত কর্মকান্ড ভালো, যিনি বিগত দিনে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এ রকম প্রার্থীকেই তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার কথা বলছেন। ভোট কেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ পরিবেশও চান তারা। এদিকে জেলার পাঁচ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীদের পাশা-পাশি রয়েছেন দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এনিয়েও উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনি মাঠে। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পোষ্টার ছেঁড়াসহ নানা অভিযোগ করছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু (দোয়াত-কলম), উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম চৌধুরী (নৌকা), জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন বকুল (কাপ-পিরিচ) ও বিএনপি নেতা ওয়াহিদুর রহমান (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দশজন। তারা হলেন, এডভোকেট রহমত উল্লাহ বিপ্লব (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মো. হাফিজ উল্লাহ (মাইক), এহতেশাম হায়দার বাপ্পি (পালকি), মোঃ আব্দুল্লাহ (টিউবওয়েল), মোজাম্মেল হোসেন মিজান পাটওয়ারী (তালা), মোক্তার হোসেন চৌধুরী (আইসক্রীম), এমরান মাহমুদ রুবেল (উড়োজাহাজ), নিজাম উদ্দিন রাশেদ (টিয়া পাখি), নাজিম উদ্দিন (চশমা) ও মাসুম কবির (বই)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন পাঁচ জন। তারা হলেন, কাজী খালেদা আক্তার (হাঁস), সেলিনা আক্তার পাটওয়ারী (পদ্মফুল), সুলতানা আক্তার লাকি (কলস), বেব্রুজা বুলবুল বীনা (ফুটবল) ও সুমি আক্তার (প্রজাপতি)।

রায়পুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুজন। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ (নৌকা) ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার (মোটরসাইকেল)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আটজন। তারা হলেন, আবুল কালাম আজাদ (টিয়াপাখি), এডভোকেট এবিএম বারাকাত বিন জাকারিয়া (টিউবওয়েল), মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (বই), আনসার উল্লাহ (বৈদ্যুতিক বাল্ব), আসিফ রুহুল (মাইক), মোহাম্মদ সফিকুর রহমান খান (চশমা), সালাহ উদ্দিন আহমদ (তালা) ও মাইন উদ্দিন মোল্লা (উড়োজাহাজ)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন, হাসিনা আক্তার (কলস), রাহেলা আক্তার (পদ্মফুল), হাজী মাজেদা বেগম (প্রজাপতি) ও কোহিনূর বেগম (ফুটবল)।

রামগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুজন। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. মনির হোসেন চৌধুরী (নৌকা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. সিরাজ মিয়া (আম) প্রতীক। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুজন। তারা হলেন, রাকিবুল হাসান (তালা), দেলোয়ার হোসেন (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুরাইয়া আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

রামগতি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ (নৌকা), শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল (কাপ পিরিচ), মোহামম্মদ হারুনুর রশিদ মোল্লা (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন, আলতাফ হোসেন (তালা), রাহিদ হোসেন (টিউবওয়েল), জোবায়ের হোসেন (উড়োজাহাজ) ও নাজিম উদ্দিন (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন। তারা হলেন, মর্জিনা বেগম (হাঁস), ফাতেমা ফারুক (কলস) ও শিপন রানী সাহা (ফুটবল)।

কমলনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন সাতজন। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ কে এম নুরুল আমিন মাস্টার (নৌকা), উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমদ বাপ্পি (দোয়াত-কলম), আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী (ঘোড়া), নুরুল আমিন (মোটরসাইকেল) আবদুর রহমান (হেলিকপ্টার), মো. আহসান উল্লাহ (আনারস), আনোয়ারুল হক (কাপ-পিরিচ)।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন পাঁচ জন। তারা হলেন, ওমর ফারুক (টিয়াপাখি), জাহিদুল ইসলাম (টিউবওয়েল), আবদুল্লাহ আল ই¯্রাফিল (মাইক), মনিরুল হক মনির (চশমা) ও আলাউদ্দিন (তালা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন, রোকসানা আক্তার (ফুটবল), সাজেদা আক্তার (কলস), শারমীন আক্তার অরিন (হাঁস) ও শাহীদা আক্তার (সেলাইমেশিন)।

সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম সালাহউদ্দিন টিপু বলেন, সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। আমি চেয়ারম্যান থাকা কালে স্বচ্চতার সাথে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি, উপজেলাবাসীর জন্য রাত-দিন কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ তারাই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগরের অন্যান্য প্রার্থীরাও তাদের কর্মকান্ড তুলে ধরে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটারা যেন শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১২লাখ ৩৪হাজার ৬৯৬জন। আগামী ২৪মার্চ এই সব ভোটার জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৫৮টি ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নুসরাত হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি টিআইবি’র

নুসরাত হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি টিআইবি’র

স্টাফ রিপোর্টার ::: নুসরাত হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভয় ...