প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন শাহ আলম!

অনিমেষ চৌহান :: নোয়াখালীর সুবর্ণচরের আওয়ামীলীগের একজন সাধারণ কর্মী শাহ আলম। ষাটোর্ধ্ব শাহ আলম কখনো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেননি। গণভবনেও প্রবেশের সুযোগের প্রশ্নই আসে না। তবে তাঁর একান্ত ইচ্ছা ছিল শেখ হাসিনাকে স্বচক্ষে এক নজরে দেখার। দলীয় শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেই তৃণমূল কর্মী শাহ আলমের ইচ্ছে পূরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা!

শাহ আলমের ইচ্ছে পূরণের নেপথ্যে ছিলেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এইচ এম খায়রুল আলম সেলিম। শাহ আলমের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। অনেক মানুষের ভীড়ে আওয়ামীলীগ নেত্রীর কাছে শাহ আলমের আসার কারণ জানান জেলা সভাপতি। বঙ্গবন্ধু কন্যা দাঁড়িয়েই শাহ আলমের কথা শোনেন। এ সময় শাহ্ আলম তার স্ব-রচিত একটি কবিতা প্রধানমন্ত্রীকে শোনানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী নিরবে দাঁড়িয়ে মনোযোগ সহকারে তার কবিতা আবৃতি শোনেন এবং ক্যামেরায় ছবি তোলার নির্দেশ দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গণভবনে শাহ আলমের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সদ্য তোলা দুটি ছবি বড় সাইজে প্রিন্ট করে তার হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থাও করেন তিনি। ছবি দুটি হাতে পেয়ে শাহ আলম নিজের চোখকেও যেনো বিশ্বাস করতে পারেন নি। আবেগে চোখের পানি চেপে রাখছিলেন বারবার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার হাজারো ব্যস্ততা। মন্ত্রী-এমপি, সেনাপ্রধান-বিজিবি প্রধান, কেবিনেট সচিব-মুখ্য সচিবগণের সাথে দাপ্তরিক কাজকর্ম প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করতে হয় তাঁকেই। দলের ভেতর একের পর এক শুদ্ধি অভিযান চালানো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ীদের সাথে মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনা। এমনকি নিজ নির্বাচনী এলাকার মেম্বার কর্তৃক নিগৃহিত গ্রামের নারী-পুরুষের নালিশ শোনা, চোখের পাখি মুছে দিয়ে জড়িয়ে ধরে শান্ত্বনা দেয়া এবং তাদের সাথে ছবি তোলা। সকাল থেকে দুপুর পর্য়ন্ত একটার পর একটা প্রোগ্রাম করা এ সবকিছু একজন মানুষের পক্ষে কষ্টকর হলেও তিনি একাই সামলাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

ওই দিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অলপার্টি প্রতিনিধিদলের প্রায় ত্রিশজন সংসদ সদস্যের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতাও করেছেন। সারাদিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও শাহ আলমের মতো একজন সাধারণ কর্মীর সুখ-দুখের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার মতো মানুষটিই হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এইচ এম খায়রুল আলম সেলিম বলেন, শাহ আলমের মতো মানুষগুলো দলের নিবেদিত প্রাণ। তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। দলকে ভালোবেসে কাজ করে যান অগোচরে। এমন একজন কর্মীর ইচ্ছেপূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যার সাক্ষাৎ পেয়ে খুশি শাহ আলমও। তিনি বলেন, জন্মের পর বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করেছি। এখন তার কন্যার রাজনীতি করছি। ৭ মার্চের ভাষণের সময় বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখা হয়নি কখনো। সেই ইচ্ছেও পূরণ হলো আজ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহাকাশে হেঁটে ইতিহাস গড়লেন ২ নারী

ডেস্ক নিউজ :: মহাকাশে প্রথমবারের মতো হাঁটলেন শুধুই নারী নভোচারীদের একটি দল। ...