শীতে এক সপ্তাহে ১৭ শিশুর মৃত্যু

শীতে এক সপ্তাহে ১৭ শিশুর মৃত্যুগত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীত জনিত রোগে ১৭ শিশু মারা গেছে।অন্যদিকে প্রচন্ড ঘন কুয়াশার কারনে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে।

মো: ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: এবার মধ্য অগ্রহায়ন মাসেই প্রচন্ড শীত পড়েছে রংপুর ও আশপাশের এলাকায়। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে কোল্ড ডায়রিয়া নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত নানান রোগ বালাই।

এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি শিশুরা। গত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীত জনিত রোগে ১৭ শিশু মারা গেছে।

অন্যদিকে প্রচন্ড ঘন কুয়াশার কারনে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে।

অপরদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শীত বস্ত্রের দাম।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে পঞ্চগড়ের আকলিমা বেগম তার শিশু সন্তান মোরছালিনকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিলো তার।

Rangpurডাক্তাররা বললেন নিউমোনিয়া হয়েছে। আকলিমার মতো লালমনিহাটের হালিমার শিশু কন্যা মমতাজ, রংপুরের গঙ্গাচড়ার আমিনা বেগমের শিশু পুত্র সজিবসহ আরো অনেক শিশু ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। বেশির ভাগ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

এ ছাড়াও কোল্ড ডায়রিয়া আর শীত জনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে বেডে স্থান না পেয়ে বারান্দা এমনকি করিডরে ভর্তি আছে শতাধিক শিশু।

বিশেষ করে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের দূর্ভোগের শেষ নেই। ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এ জন্য ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা আর করিডরে রাখা হচ্ছে শিশুদের। এতে করে আক্রান্ত শিশুরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তাহে এ হাসপাতালে ১৭ শিশু মারা গেছে।

স্বজনরা বলছেন কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হবার কথা । তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিষ্টার ডা. শামসুজ্জামান প্রধান দাবি করলেন ওই সব রোগে কোন শিশু মারা যায়নি।

তারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলেন কোল্ড ডায়রিয়া নয় রোটা ভাইরাল ডায়রিয়া । আর এ রোগ সাধারনত ভরা শীত মৌসুমে দেখা দিলেও এবার এখনই এ রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে।

তবে তিনি স্বজনদের আতংকিত না হবার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন, শীতের কবল থেকে সন্তানদের রক্ষা এবং পুষ্টিকর খাবার দিলে এ রোগ সারানো যায়। অন্যদিকে শীতের তীব্রতা মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় সহায় সম্বলহীন মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে।

শীত বস্ত্রের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ভাবে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে তাপমাত্রা প্রতিদনিই কমছে।

বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বেড়েছে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে।

কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশী বলে অভিযোগ করলেন ক্রেতারা। স্বীকারও করলেন বিক্রেতারা ।

গত বছর যে পুরাতন সোয়েটার বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে একশ টাকা। এবার তা দেড়শ টাকা দর হাকাচ্ছেন দোকানীরা। একই ভাবে জ্যাকেট চাদরসহ অন্যান্য শীত বস্ত্রের দাম বেড়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরী’

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: সত্যের জয় অনিবার্য “ পার্বত্য চুক্তি (শান্তি চুক্তি) বাস্তবায়নসহ ...