শিশুদের জন্য সংসদ অধিবেশনে এক ঘন্টা বরাদ্দ রাখার দাবী

স্টাফ রিপোর্টার :: শিশুদের একটি বিরাট অংশ এখনো তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। একটা শিশুও যেন নির্যাতিত না হয়, অকালে ঝরে যেতে না হয়, সকল অধিকার যেন সে ভোগ করতে পারে। শিশুদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য প্রতিটি সংসদ অধিবেশনে অন্তত এক ঘন্টা সময় বরাদ্দ রাখা হোক।

বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকালে সংসদ ভবনের আইপিডি হলরুমে শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস এর সাথে বেসরকারী সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবী জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সংগঠনগুলোকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে শিশুদের জন্য পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠন করা হোক।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, এমপি। সভাপতিত্ব করবেন শিশু অধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারিয়ান ককাসের সভাপতি মোঃ শামসুল হক টুকু, এমপি।

বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আরমা দত্ত, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, অপরাজিতা হক, রাবেয়া আলীম, তামান্না নুসরাত (বুবলী), রওশন আরা মান্নান, মোঃ রেজাউল করিম বাবলু, আবিদা আঞ্জুম মিতা, সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা, এএসডির নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ, এসওএস শিশু পল্লী বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল পার্সন (শিশু সুরক্ষা) চায়না রানী সাহা, প্রমূখ। মতবিনিময় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এএসডির ডিসিএইচআর প্রকল্পের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ইউকেএম ফারহানা সুলতানা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দিলরুবা সাথী।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি শুধু আইন করে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে শিশু ও নারী নির্যাতন আইনের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনটি যথেষ্ট কার্যকারী। শিশু নির্যাতনকারী কোনভাবেই ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই এই আইনে। অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সরকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিচার কাজ কার্যকর করছে।

মূল বক্তব্য ইউকেএম ফারহানা সুলতানা, শিশু অধিকার সুরক্ষায় প্রচলিত আইনসমূহের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, শিশু অধিকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, কোন শিশু পথে থাকবে না- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করার দাবি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১২ নভেম্বরের স্বজন হারানোর কান্না আজও থামেনি

শিপু ফরাজী,চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সনের এই দিনে পৃথিবীর ...