আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ::

মোংলায় কয়েকদিন ধরে চলছে প্রচন্ড তাপদাহ। সূর্য্যরে প্রখর তাপে এখানকার মানুষজন যেন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। একদিকে গরম অন্যদিকে বিদ্যুৎতের লোডশেডিং মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলেছেন। শনিবারের তাপদাহে স্বস্তি পেতে ছোট বুড়ো সবাই পানিতে ওগাছের ছায়ায় অবস্থান করছেন। গরমে রাস্তাঘাটেও লোকজন কম।

তাপদাহে ঘরেও থাকতে পারছেনা মানুষ। বয়স্ক ও শিশুদের দেখা গেছে পুকুরের পানিতে নেমে স্বস্তি নিতে। কিন্তু প্রচন্ড রোদ্রে পুকুরের পানিও উত্তপ্ত হয়ে গেছে। তাই পুকুরের পানিতেও যেন স্বস্তি মিলছেনা মানুষের।

পৌর শহরের কবরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা মো: আক্কাস আলী বলেন, এখন শ্রাবণ মাস চলছে, বৃষ্টি তো হচ্ছেই না উল্টো প্রচন্ড গরম। গরমে ঘরবাড়ীতে থাকা যাচ্ছেনা। তাই নাতি-পুতনিদের নিয়ে পুকুরের পানিতে নেমে বসে আছি। পুকুরের পানিও গরম।

দিগন্ত কলোনীর বাসিন্দা কাঞ্চন মাঝি বলেন, রোদ্রের যন্ত্রনায় টিকতে পারছিনা। কবরস্থান সরকারী পুকুরের ঘাটে পানিতে নেমে বসে আছি। পুকুরের পানিও একহাত নিচে পর্যন্ত গরম।

এছাড়া অবলা প্রাণীদেরও দেখা গেছে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে। গরমে ছুটাছুটি করছে প্রাণীকুলও। শনিবার দুপুরে বন্দরের
প্রশাসনিক ভবন এলাকায় দেখা গেছে একটি গুইসাপ গরমে মাটির উপর থেকে পাশের ড্রেনে নেমে পড়েছে ছায়ার স্বস্তি পেতে। আর পৌর শহরের সামছুল হক সড়কে গরু আশ্রয় নিয়েছে গাছের ছায়ায়। গরমেও পানি খেয়ে তৃঞ্চা মিটছেনা খেটে খাওয়া দিনমুজরদের। গরমে পানিশুণ্যতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন। তৃঞ্চামিটানোর সুপেয় পানির সংকট রয়েছে পৌর শহরে।

পৌর শহরের ভ্যান চালক মো: মহিদুল ইসলাম বলেন, গরমে ভ্যান চালাতে কষ্ট হয়। একবার যাত্রী টেনে দশ মিনিট বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। গরমে পানির পিপাসাও লাগছে। পিপাসা মিটানোর মতও খাবার পানি এখানে নেই। খাওয়ার যেন পানি সরবরাহ করা হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তাতে আমাদের পরিপূর্ণ তৃঞ্চাও মিটাতে পারছিনা।

পৌরসভার শিকারীর মোড়ের বাসিন্দা মো: কবির বলেন, গরমে প্রচন্ড শরীর ঘামছে, পানিশুণ্যতা দেখা দিয়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর পানি তো লবণ তা খেয়েও পিপাসা মিটছেনা।

এছাড়াও গরমে মরার উপক্রম হয়েছে ঘেরের বাগদা চিংড়ি মাছ। আর দুরদুরান্ত থেকে মোংলার ঘের মালিকদের কাছে সাদা মাছ বিক্রি করতে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।

উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের ঘের মালিক মোজাম্মেল ও নাজমুল হক বলেন, তাপদাহে ঘেরের পানি গরম হয়ে মাছ মরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। যদি তাপদাহ না কমে এবং বৃষ্টি না হয় তাহলে ঘেরের মাছ মরে যাবে।

খুলনা ফুলতলা থেকে সাদা মাছ বিক্রি করতে আসা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গরমে হাড়ির মাছ মরে যাচ্ছে, তাই পুকুরের পানি তুলে হাড়ির পানি পাল্টাচ্ছি। তা না হলে হাড়ির মাছ গরমে সব মরে যাবে। এখানে পুকুরের পানিও ভাল না।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ঢাকা) আবহাওয়াবিদ ড. মো: আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস মোংলায়। এর আগে শুক্রবার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মোংলাতে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, এ তাপদাহ অবশ্য দুই একদিনের মধ্যে কমে যাবে।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here