ডেস্ক নিউজ :: লিবিয়ার মিজদাহ শহরে গত সপ্তাহে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে হত্যার মূল হোতা খালেদ আল মিশাই দেশটির বিমানবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘দ্য লিবিয়া অবজারভার’ এ খবর দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পত্রিকাটির ভেরিফায়েড টুইটার পেজে এ বার্তা প্রকাশ করা হয়।

গতকাল বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের কাছে টুইট বার্তাটি পাঠানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, মঙ্গলবার ত্রিপোলি থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের গারিয়ান শহরে বিমানবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন লিবিয়ার বিদ্রোহী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য খালেদ মিশাই।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, লিবিয়ায় পাচারকারীদের হাতে আরও শতাধিক নাগরিক জিম্মি রয়েছে বলে কয়েকটি অসমর্থিত মাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানার জন্য ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানায়। এর আগে মিজদাহে মিলিশিয়াদের গুলিবর্ষণ থেকে ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া সাইদুল ইসলামও দূতাবাস কর্মকর্তাদের পাচারকারীদের হাতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশির আটক থাকার কথা জানিয়েছেন।

ত্রিপোলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সেকান্দার আলী সমকালকে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এ ধরনের তথ্য মাঝেমধ্যেই আসে। কিন্তু পাচারকারীরা পাচারের জন্য ব্যবহার করে দুর্গম মরু অঞ্চল। এসব অঞ্চলে ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণ করা লিবিয়া সরকারেরও নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এ কারণে এসব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দুরূহ। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে এ মুহূর্তে কতজন বাংলাদেশি পাচারকারীদের কাছে আটক আছে, তা বলা সম্ভব নয়। নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল মাধ্যম থেকে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করার চেষ্টা চালাচ্ছে দূতাবাস।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার সুযোগ নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়াকে ইউরোপে মানব পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারী চক্র। পাচারের আগে লিবিয়ার দুর্গম মরু অঞ্চলে আটকে রেখে নির্যাতন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের একটি ঘটনায় পাচারকারীদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশ ও সুদানের অভিবাসনপ্রত্যাশীরা গত ২৭ মে লিবিয়ার দুর্গম মরুময় মিজদাহ শহরে স্থানীয় এক পাচারকারীকে মেরে ফেলেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে পাচারকারীদের সঙ্গী মিলিশিয়ারা ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং চারজন সুদানের। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১১ বাংলাদেশি।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here