গাংগে আমাদের বাড়ীঘর ভিটামাটি ভাঙ্গি যাচ্চে এখন পনিত্ম কেউ  কুনো খোজ বা একটা বিহিত কইরলোনা।  দুইখান এমপি, দেশের সরকার কারোও কি ঘুম ভাঙছে না? আমারে কি ভোটের দাম নাই। ছেলি মিয়া লিয়া আমরা কোতি যাবো ! দেশে কুনো দরদী আছে যে আমারে ঠাই দিবি? পাগলের মতো একটানা কথাগুলো বলছিলেন লালপুরের তিলকপুর গ্রামে পদ্মার ভাংগনে আতংকিত  মধ্য বয়সী আকতার হোসেন ।

নাটোরের লালপুর উপজেলার ১নং লালপুর ও ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নে পদ্মার তীরে ভয়াবহ ভাঙ্গন বেড়েই চলেছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মানের দাবিতে স্থানীয় জনগণ মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাঁড়া না পেয়ে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক, হতাশা ও ড়্গোভ দেখা দিয়েছে। কোথাই গেলে এর প্রতিকার পাবে তাও বুঝে পাচ্ছে না গৃহহারা মানুষগুলো।

ইতিমধ্যে দুইটি মসজিদ, মন্দির, সরকারী সড়ক সহ শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে দুটি বিদ্যালয়সহ অনেক স্থাপনা চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পদ্মার ভাঙ্গনে সব বিলিন হয়ে যাবে।

লালপুর উপজেলায় ভয়াবহ ভাঙ্গনে পদ্মা নদীর তীর রক্ষাকারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কিলোমিটার বাঁধ বিলিন হয়ে গেছে। ব্লক বাঁধের একাংশ ইতিমধ্যে ভাঙতে শুরু করেছে। বাঁধ সংলগ্ন শতাধিক ঘর-বাড়ি, হাজার হাজার একর ফসলী জমি ও ফলের বাগান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
লালপুরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন চলছে। ভাঙ্গনের শব্দে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে নদী ভাঙ্গন দেখতে। এখানকার মানুষ ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে যে যার মত নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। নদী তীরবর্তী উপজেলার লালপুর ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের পুরাতন ঈশ্বরদী, গৌরীপুর, তিলকপুর, লক্ষীপুর, নিমতলী, পালিদেহা, মাঝদিয়া বড়পাড়া, কুমারপুর গ্রামে কয়েক’শ বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাগান ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। কুমারপুর গ্রামের পুরোটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। লালপুরের চরজাজিরা গ্রামের কয়েক হাজার ফসলি জমি নদীতে ভেঙ্গে গেছে।

অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলার তিলকপুর, নবীনগর, নূরুল্লাপুর, গৌরীপুর, পালিদেহা, রামেশ্বরপুর, সাদিপুর, পুরাতন ঈশ্বরদী শিমুলচরা গ্রাম ও লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। আরো হুমকিতে রয়েছে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স, লালপুর থানা ও লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

পালিদেহা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তারের ১৪ বিঘা ফসলি জমি ও আম বাগান, নুফছের আলী খাঁর ১৩ বিঘা আম-কাঁঠালের বাগান ভেঙ্গে গেছে। একই গ্রামের গোপাল হালদার, নেপাল, অপাল, বিকাশ, রিপন, সুধাংশু, মনি, লালচাঁদ, হাজেরা, জুব্বার, নিপেন, অর্জুন, আব্দুস সাত্তার, মতিয়ার রহমান, রণজিতসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

লালপুরের ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হয়েছে। ইতি মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে। নদী তীরবর্তী প্রায় দুই হাজার পরিবার  নদী ভাঙ্গনের চরম ঝুকির মধ্যে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা স্থানীয় সরকারের পক্ষে সম্ভব না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ সমপ্রসারণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড  ভাঙ্গন রোধে কিছু বালির বস্তা ফেলতে শুরুকরেছে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/আশীষ কুমার সরকার/লালপুর

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here