ব্রেকিং নিউজ

লাভ-ক্ষতির হিসাবে করোনা পরবর্তী বাংলাদেশ

মোঃ শাহীন

মোঃ শাহীন :: একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ও আলোচিত মহামারী হচ্ছে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। পৃথিবীতে এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম যেখানে করোনা ভাইরাসের থাবা পড়েনি।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মানব জাতি আজ দিশেহারা। এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বের গতিবিধি পরিবর্তন করে দিচ্ছে। পরিবর্তন এসেছে জীবন যাপনেও।  বাড়তে পারে দারিদ্র্যের হার। কমতে  পারে মানুষের জীবন যাত্রার মান।বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা খাত, অর্থনীতি ও শিল্প খাত। তবে জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম ও ব্যবসা- বানিজ্য।
.
মানুষের জীবন যাত্রা থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ব আজ থমকে আছে। পুরো পৃথিবী আজ আতঙ্ক গ্রস্ত। উচ্চভিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নভিত্ত, রাজা থেকে শুরু করে প্রজা, শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, সকল মানুষের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অর্থের অভাব না থাকলেও বাজারে পর্যাপ্ত পন্যের যোগান নেই। অসংখ্য মানুষ কাজ কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। বিশ্বের সব বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী আর উন্নত  প্রযুক্তি সবই হার মেনেছে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কাছে।
.
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর কারণে ভেঙে পড়েছে  অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যবসা- বানিজ্য। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাস ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় ভুগছে ছাত্র ছাত্রীরা।বন্ধ রয়েছে সব ধরনের চাকরির পরীক্ষা। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে হাজার হাজার চাকরি প্রত্যাশীরা।
.
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কোভিড-১৯ এর কারণে পৃথিবীর অনেক দেশেরই জিডিপি ১০ শতাংশের বেশি আর্থিক ক্ষতি হবে। আমাদের যদি এর অর্ধেকও ক্ষতি হয় তাহলে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে আর্থিক ক্ষতি হবে। আমাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ কোটি টাকা কম আদায় হবে। করোনা সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সরকার আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ সরকারও ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।
.
বিশ্ব মন্দার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা তাদের কর্ম হারাচ্ছে। ফলে  প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে যাবে। প্রবাসী আয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ৫শতাংশ যা খুবই আশানুরূপ ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ নামক মহামারীর কারণে প্রবাসীদের আয় কমে যাবে। এই বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অনেক শ্রমিক তাদের কাজ হারাবে। ফলে আমাদের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
.
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বৈশ্বিক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে দেশের প্রতিটি সেক্টরে। অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার প্রসার বেড়ে যাবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে সরকার ও ইউজিসি।বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগেও অনলাইন কোর্স চালু ছিল। এর গুরুত্ব দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন সাইটগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
.
ক্রমাগত  বেড়ে চলেছে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা।বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাদের জন্য করোনা বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ আক্রমণের ফলে বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা গুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আলীবাবার মতো বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো দেশের বাজার দখল করছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান গুলো অন্যান্য দেশে ব্যবসা- বানিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বয়ংক্রিয় দোকানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশও আস্তে আস্তে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
.
বেকারত্ব সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে যাবে। অনেক কলকারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা বানিজ্যের ফলে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে।প্রযুক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। সকল ধরনের কাজ কর্ম মেশিন নির্ভর হয়ে পড়বে। প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ কৌশলেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
.
.
.
লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: অভিশাপ হিসেবে পরিগণিত হবে

মো: মিজানুর রহমান :: আসলে আমরা তাৎক্ষণিক প্রভাবের জন্য দীর্ঘকালীন প্রভাব ভুলে যাই ...