জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য হতে লড়তে চান আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির এক ডজনেরও বেশি নেতা। কুয়েতে মানব ও অর্থপাচারের মামলায় এ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের সাজা হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। ২৮ জানুয়ারি কুয়েতে পাপুলের রায় ঘোষণার দিন থেকে আসনটি শূণ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এরপর বুধবার (৩ মার্চ) উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী- মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১৮ মার্চ, বাছাই ১৯ মার্চ ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৪ মার্চ এবং ১১ এপ্রিল ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার আসনে সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন থেকে এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন সম্ভব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। উপ-নির্বাচন ঘিরে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেন ডজনখানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এখন ইসি কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ঘোঘণার পর পরই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্ব-স্ব দলীয় হাইকমান্ডে যোগাযোগ ও মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট ফোরামে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এ দিকে এই আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। গত নির্বাচনেও তিনি এ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, পরে এই আসনে জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তখন তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেতা-কর্মীদের নিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যান। এখন দলীয় নেতা-কর্মীরা নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরে তাকে নৌকার মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে জোরালো দাবি যানাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপুলের আসন শূন্য হওয়ার পর উপ-নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও এর বাইরের রাজনীতিকরা। এরা আসনটিতে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এরমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন বলে পরিচিত একাধিক নেতাও রয়েছেন। করোনাকালেও এলাকায় তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অন্তত ডজনখানেক নেতার অনুসারী তাদের নেতার পক্ষে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ‘প্রিয় নেতার’ রঙিন ছবিসহ পোস্টার বানিয়ে তারা লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার জন্য জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন। তার পক্ষে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্নভাবে প্রচারণাও শুরু করেছেন। তাকে সমর্থনের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে দলীয় মনোনয়ন দিতে দলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয়েছে তার পোস্টার ও ফেস্টুন।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, ফোরকান আলী, আবু সুফিয়ানসহ কয়েকজন বলেন, উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুসারীদের দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন অনেকেই। এদের মধ্যে জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত নেতাও রয়েছে। নির্বাচন এলেই তাদেরকে এলাকায় দেখা যায়। এরপরে তাদের আর দেখা যায় না। আগামীতে আমরা কালো টাকার মালিক ও জনবিচ্ছিন্ন কাউকে এমপি পদে দেখতে চাই না। জিনি সব সময় দলের জন্য ও জনগণের জন্য কাজ করেছেন তাকেই আমরা এমপি হিসেবে দেখতে চাই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভেকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ। তার নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ এখন সু-সংগঠিত। তার সু-দক্ষ নেতৃত্বের কারনেই লক্ষ্মীপুর জেলার তিনটি পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক সকলের জন্য তিনি কাজ করেছেন। করোনা মহামারিতে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি এই এলাকার জনগণের বন্ধু। তার মেধা ও শ্রম দিয়ে তিনি লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়লাভ করিয়েছেন। এই আসনে নির্বাচিত হয়ে পাপুল দেশ-বিদেশে আমাদের যে বদনাম করেছেন তা গোছাতে নয়নের বিকল্প কোন নেতা নেই। তাই উপ-নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে মনোনয়ন দিবেন বলে আমরা আশা করি।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুক্রবার (৫ মার্চ) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত দলটি এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের ফরম কেনার সুযোগ দেবে। দলীয় মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে বেশ কয়েজন নেতা দলের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হিজবুল বাহার রানা।
এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম আর মাসুদ দলীয় মনোনয়ন পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পক্ষেও দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও এ নেতা-কর্মীদের সংখ্যা নগণ্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, আমি তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতিটি সুফল জনগণের মাঝে সুষমভাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ও মানবিক কর্মকান্ডে দিনদিন আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বাড়ছে। নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে আমি পাশে ছিলাম এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। এখন দলের নেতা-কর্মীরা আমাকে এমপি মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। পরীক্ষিত ও তৃণমূলে বসবাসকারী নেতা, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন, এটাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশা করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here