জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে প্রকাশ্যে সুমি (৪২) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ে রাছেল নামের এক হত্যাকারী নিহত হয়েছে। নিহত গৃহবধূ কাতার প্রবাসী সফিউল্যাহর স্ত্রী ও রাছেল মিয়া একই এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সে পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ সময় হামলায় নাসরিন আক্তার সুমির ছেলে নাঈমুর রহমান ও ঝা রানু বেগমসহ আহত হয়েছেন তিন জন।

রবিবার সকাল ৯ টার দিকে জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের উত্তর ভূঁইয়া বাড়িতে কাতার প্রবাসী সফিউল্লাহর বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে নিহত নারীর কথিত প্রেমিক রাসেল তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

হত্যার শিকার গৃহবধূর ছেলে নাঈমুর রহমান বলেন, আমি সকালে ঘুমে থাকা অবস্থায় পাশের বাড়ির আনোয়ার হোসেন মোল্লাসহ একই এলাকার বলী মোল্লা বাড়ির রাছেল ঘরের দরজা খুলে দিতে আমার মাকে ডাক দেয়। এ সময় তাদের ডাকাডাকিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার মা প্রথমে দরজা না খুললেও পরে আনোয়ার মোল্লাকে দেখে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলে দেয়ার সাথে সাথে রাছেল মিয়া ঘরে ঢুকেই আমার মায়ের গলায় ছুরি ধরে। এ সময় আমার এক চাচিসহ আমি আমার মাকে উদ্ধার করতে গেলে রাছেল মিয়া আমাদের দুইজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।

আমার চিৎকারে চৌকিদারসহ এলাকাবাসী ছুটে আসলে রাছেল মিয়া সবার সামনে আমার মাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমি দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে সামনের ও পিঁছনের দরজাসহ ছাদের দরজা বন্ধ করে দিলে ঘরের ভিতরে আটকা পড়ে রাছেল মিয়া। রাছেল মিয়াকে আমাদের বসতঘরের ভিতরে আটকে রেখে বাড়ির লোকজনসহ আমি আমার মাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় আমরা খবর পাই গ্রামবাসী আমাদের ঘরের দরজা ভেঙে আমার মায়ের খুনী রাছেল মিয়াকে গণধোলাই দেয়। পরবর্তিতে তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্তে জেনেছি নাসরিন আক্তার সুমির সাথে রাছেল মিয়ার পরকীয়ার সর্ম্পক চলে আসছিলো। ইদানিং নাসরিন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে রাছেল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে নাসরিন আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাছেল মিয়াকে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here