লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা-ভাঙচুর: মালামাল লুট, নারীসহ আহত-৭

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা ওই পরিবারে বসত বাড়ি ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলায় নারীসহ-৭ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় হামলার পর থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

সন্ত্রাসীরা স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাংগিয়ে প্রতিনিয়িত ওই পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। হামলায় আহতরা হলো- রিজিয়া খাতুন, রুস্তম আলী, মারজাহান বেগম, বানু বেগম, পান্না বেগম, শরীফ ও মোহাম্মদ উল্যা। এ ঘটনায় রুস্তম আলী বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় গত ৪ মে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ০৬/২০ জিআর ১৮৬/২০।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের আহলাদীনগর গ্রামের মালি বাড়ির রুস্তম আলীর সাথে একই গ্রামের বলরাম চন্দ্র মালাকারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সে বিরোধের জের ধরে গত ২২ এপ্রিল সকালে বলরাম চন্দ্র মালাকার ও তার ছেলে জীবন ৭-৮জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে রুস্তম আলীর পরিবারের উপর হামলা চালায়। রুস্তম আলীকে গুরুতর আহত করে ও নির্মানাধীন বসতবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রুস্তম আলীকে উদ্ধার করতে গেলে তারা রুস্তম আলীর পরিবারের অন্য সদস্যদের উপরও হামলা চালিয়ে নারীসহ ৭জনকে আহত করে। এ সময় রুস্তম আলীর স্ত্রী রেজিয়া বেগমকে বলরাম ও তার ছেলে জীবন বেদম মারধর করে শ্লীলতাহানী করে।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রুস্তম আলীর পরিবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে বলরাম চন্দ্র মালাকার ও তার ছেলে জীবন ৭-৮জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে পুনরায় রুস্তম আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও নগদ টাকাসহ ঘরের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা রুস্তম আলীর একটি বসতঘর ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। পরে আশপাশের লোকজন আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এর আগে উক্ত জমি নিয়ে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রুস্তম আলী একটি মামলা করেন। যাহার সিআর মামলা নং- ১২৭৭/১৯।

পরে বলরাম মালাকারও বাদী হয়ে অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। উক্ত মামলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করে মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এদিকে বলরাম মালাকার ও রুস্তম আলীর বিরোধীয় ভূমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কয়েকবার বৈঠক করে সমাধান করে দিলেও বলরাম মালাকার প্রশাসনের হুমকি দিয়ে তা প্রত্যাখান করে। বলরাম মালাকার সার্কিট হাউজের মালি হওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।

রুস্তম আলী বলেন, বলরাম চন্দ্র মালাকারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে আসছে। বলরাম চন্দ্র মালাকার ও তাদের পরিবারে সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মালির কাজ করে। এ সুবাদে তারা প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে আমাদের জমি বহুবার জবর দখল করার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে আমাদের উপর একাধিকবার হামলা চালায়। এনিয়ে কয়েক দফা আমার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে বলরাম চন্দ্র মালাকার ও তার ছেলেসহ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে আমার বসতঘর মেরামতের জন্য কাজ করতে গেলে বলরাম চন্দ্র মালাকার ও তার ছেলে জীবন ৭-৮জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আমাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় আমাদের পরিবারের ৭সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদের এই সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের এবং আমাদের জমি জবর দখরের চেষ্টাসহ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বরগুনায় মুক্তা চাষে সাফল্য

ডেস্ক রিপোর্ট ::বরগুনায় ঝিনুকের মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ...