জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও বিপদ কাটেনি এখনো। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ঢেউয়ের। সব পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে। বিশ্বের সকল দেশের সাথে বাংলাদেশ সরকারও সব কিছু স্বাভাবিক করার সুযোগ দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের বেশির ভাগ মানুষই মানছে না অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি। দেশজুড়ে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও লক্ষ্মীপুরের চিত্র ভিন্ন। গণপরিবহন থেকে শুরু করে অফিস আদালতে বেশিরভাগ মানুষই মাস্কের ব্যবহার করছেনা।

এদিকে কারোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় জনগণকে মাস্ক পড়ে চলার পাশাপাশি আরো সতর্কতার সাথে চলাফেরার জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা মূলক প্রচার অভিযান চালালেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এ বিষয়ে কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছেনা। মহামারি করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে সকল কার্যক্রমে উদাসীন ছিল জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে মানুষের মধ্যে যে ভীতি ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ভীতি কমলেও সাথে সাথে বেড়েছে মানুষের উদাসীনতা। এর ফল মারাত্মক হতে পারে। কারণ, ছয় মাস পরও সংক্রমণের হার কিছুটা কমার দিকে থাকলেও মৃত্যু বড় আকারে কমার লক্ষণ নেই। এখন রোগীদের উপসর্গেও কিছু ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা ও করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত চিকিৎসকেরা বলেছেন, দেশ থেকে করোনার সংক্রমণ অল্প সময়ের মধ্যে চলে যাবে না। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। এ সময়ে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বয়স্ক রোগীরা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে সর্বমোট ২২২৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তার মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১৫৭ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া জেলায় এখন পর্যন্ত ৪০ করোনা পজেটিভ রোগী মারা যায়। লক্ষ্মীপুরের বাস টার্মিনাল, উত্তর তেমুহনী, দক্ষিণ তেমুহনী ও ঝুমুর এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে যাত্রীদের অনীহা চোখে পড়ে। ওই সব স্থানে গুরে দেখা যায়, যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক ছাড়া বাসে প্রবেশ করছেন। মাস্ক ছাড়া বাসে প্রবেশ করা কয়েকজন যাত্রীকে মাস্কের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রীতিমতো খেপে যান তারা। মাস্ক পরে থাকা সচেতন যাত্রী করিম, শাহাদাত, ঐইশি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না থাকায় মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের সকল দপ্তরের অভিযান চলমান থাকলে সবাই বাধ্য হয়ে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

এদিকে গণপরিবহনসহ সকল স্থনে মাস্ক পরে চলাচল করতে জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও অনেকেই মানছেন না মাস্ক পরার নিয়ম।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীদের অনেক স্বজনই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এ ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন দোকান ও বিপনিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে রয়েছে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা। পরিবারের বয়স্কদের পাশাপাশি ছোটদের নিয়ে সকলে মিলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শত-শত মানুষের ভিড়ে গুরছেন। যাচ্ছেন এক দোকন থেকে অন্য দোকানে এতে স্বাস্থ্যবিধি তো দূরের কথা নেই কারো মুখে মাস্ক।

 

এদিকে রাজনীতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও শহরের প্রায় সব মসজিদ এবং উপাসনালয়ে এখন আর স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন না। সর্বত্র চলছে ঢিলেঢালা ভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে লক্ষ্মীপুরে করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি নুরনবী চৌধুরী বলেন, আমরা সব যাত্রীকেই মাস্ক ব্যবহার করতে বলি। কিন্তু অনেকেই তা মানেন না। তারপরও আমরা টিকিট কাউন্টারে বলে দিয়েছি মাস্ক ছাড়া কারো কাছে টিকিট যেন বিক্রি ও বাসে ওঠতে না দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘মাস্ক নাই সেবা নাই, এই মুহুর্তের ভ্যাস্কিন, মাস্ক দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিন’ এ শ্লোগানে জেলার সকল দোকানপাঠ, মার্কেট ও বিপনী বিতান সমূহে মাস্ক বিহীন ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাস্ক ব্যবহারে সকলের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে জেলায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির প্রচার অভিযান চলছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুধু হাসপাতালে নয়, সব স্থানেই মাস্ক পরা জরুরি। কিন্তু মানুষ সেটা মানছে না। আমরা চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের মাস্ক না পরে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। তারপরও গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত অবস্থান নেওয়া যায় না।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি আরো সতর্কতার সাথে চলাফেরার পরামর্শ দিয়ে প্রায় প্রতিদিন জেলা শহরের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে সেবা নিতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here