রোহিংগারা মিয়ানমার ভুখন্ড ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্ত রক্ষীরা মাইকিং করছেএনামুল হক কাশেমী, বান্দরবান প্রতিনিধি:: বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলার তুমব্রু এলাকায় সীমান্তের জিরো রেখায় অবস্থানরত প্রায় সাড়ে ৬হাজার রোহিংগার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টাার মধ্যে একাধিকবার মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীরা মাইকিং করেছেন- সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিংগারা মিয়ানমার ভুখন্ড ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্যে।

মাইকিং করার ২দিন আগে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামান্ত এলাকার ঘুরে গেছেন। পরিদর্শনের সময় তাঁকে মিয়ানমারের রোহিংগারা বলেছেন, তারা মিয়ানমারের ভুখন্ডে ফিরে যাবেন না, তারা নিরাপত্তা আশ্রয়ে থাকবেন। এ কথা জানার পর পরই মাইকিং করে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিংগাদের জানিয়ে দেয়া হয়, তারা যেন বাংলাদেশর ভুখন্ডেই চলে যায়।

রোববার বিকলেও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা মাইকিং করেছেন তাদের সরে যাওয়ার জন্যে। তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত সাড়ে ৬ হাজার রোহিংগার জীবনযাপন মহাসংকটে পড়েছে।

এপারে বিজিবি তাদের এদেশের ভুখন্ডে অপুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বর্ষায় সীমান্তের জিরোইলাইন এলাকাটি বানের পানিতে তলিয়ে যায় প্রতিবছরই। এসব রোহিংগা জিরোলাইন থেকে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন তা নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি মহল মহাচিন্তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন নাইক্ষংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিজিবি ও পুলিশ সুত্র জানায়, গত বছরের ২৪ আগষ্ট মিয়ানমারের রোহিংগাঅধূষিত এলাকাসমুহে সেদেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচার, গণহত্যা ও নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন প্রায় ১০ লাখ রোহিংগা। এদের মধ্যে জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ৪টি সীমান্ত পয়েন্টে আশ্রয় গ্রহণ করেন প্রায় ২০ হাজার রোহিংগা।

সীমান্তের সাপমারাসহ ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট থেকেই কয়েক দফায় প্রায় ১৪ হাজার রোহিংগাকে কক্সবাজার জেলার কুতুপালংয়ে রোহিংগা শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়। বাকি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার রোহিংগা তুমব্রু জিরো পয়েন্টে থেকে যায়। তাদের নিয়েই এসব বিপত্তি বিরাজ করছে।

কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক বলেন, তিনি তুমব্রু জিরো পয়েণ্টে অবস্থানরত রোহিংগাদের প্রতি ভুখন্ড ছড়ে চলে যাওয়ার জন্যে মাইকিং করার বিষয়টি জেনেছেন। তিনি ওই এলাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here