নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভাস্থ ত্রিশ কাহনীয়া এলাকায় এক অসহায় পরিবারের দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসা জমি আওয়ামী লীগ নেত্রীর নেতৃত্বে অভিনব কায়দায় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ির মহিলাদের মারধর করে গ্যারেজ ও একটি ঘর ভেঙ্গে দেয়াল নির্মাণ শুারম্ন করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তার সহায়তা কামনা করা হলেও তিনি ছিলেন নির্বিকার। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে জানা গেছে, মৃত কদমআলী ২০ বছর পূর্বে নবারম্নন জুট মিল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে এওয়াজ পরিবর্তন অনুসারে ৬০ শতাংশ জমির মালিক হন। ১৯৮১ সালে রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এওয়াজ পরিবর্তন দলিল (নং ৬৭৪) অনুসারে তিনি ও তার পরিবার উক্ত জমিতে বসবাস করতে থাকেন। প্রায় ৬ মাস পূর্বে উক্ত জমির ৪১ শতাংশ ওয়ারিশ সূত্রে এক হিন্দু লোকের নিকট থেকে ক্রয় করেছেন দাবী করেন মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী সামসুন্নাহার খন্দকার নিলা ও তার পুত্র বাসিরসহ তার পক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় মৃত কদম আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে জমি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ এনে মহিলা লীগ নেত্রী নিলার পুত্র বাসির সহ ৬ জনকে আসামী করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তিতে মামলার আসামীরা জামিন লাভ করে মৃত কদম আলীর ৬ পুত্র সিরাজুল ইসলাম, রওশন আলী, আলী আকবর, আব্দুল জব্বার, জাবেদ, গুলজার হোসেনের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের বিরম্নদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। গ্রেপ্তারী পরোয়ানার কারণে ৬ সহোদর বাড়িতে না থাকার সুবাদে শনিবার দুপুরে উক্ত ৬০ শতাংশ জমির ৪১ শতাংশ জমি দখল করে নেন নীলার লোকজন। এসময় তারা কয়েকটি বসতঘর ও একটি গ্যারেজ গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করতে থাকে। বাড়ির মহিলারা বাধাঁ দিতে এলে তাদেরকেও বেধড়ক মারধর করে। এসময় সানোয়ারা বেগম, শাহিনুর আক্তারসহ ৫ জন আহত হয়েছে।

সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা সামসুন্নাহার খন্দকার নিলার নেতৃত্বে তার পুত্র বাসির মিয়া সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে রওশন আলীর স্ত্রী আহত সানোয়ারা বেগম জানান, মহিলা লীগ নেত্রী নিলা স্থানীয় এমপি গাজী গোলাম দসত্মগীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহানের লোক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কাঞ্চন ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলামও নীলা ও তার লোকজনের পক্ষে কাজ করছেন। শফিকুল ইসলামকে বার বার জানানো সত্ত্বেও তিনি কোন ধরনের পদক্ষেপ নেননি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা সামসুন্নাহার খন্দকার নিলা দখল করার অভিযোগ অস্বীকার করে দখলকৃত জায়গাকে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন। মৃত কদম আলীর জায়গা অন্যদাগে রয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন। তিনি ৫/৬ মাস পূর্বে সুশীল নামক এক হিন্দু ব্যাক্তির নিকট থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন বলে জানান। তবে সুশীল এতোদিন কেন দখলে ছিল না এবং সুশীলের সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি কিনা এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি সুশীলের নিকট থেকে যে জমি ক্রয়ের দলিল উপস্থাপন করেছেন তাতে কোন চৌহদ্দি পাওয়া যায়নি। এসময় তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপির পিএসের বরাত দিয়ে বিষয়টি ম্যানেজের চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে নবারম্নন জুট মিলের স্টেট অফিসার আব্দুল মজিদ জানান, পূর্বে জুট মিলটি সরকারী ছিল। ২০০৫ সাল থেকে বেসরকারী ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জমি সংক্রানত্ম কাগজপত্র যার নিকট রয়েছে তিনি ছুটিতে আছেন। তাই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না।

কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাকে কেউ জানায়নি। পরে তিনি খবর পেয়ে ঘটনার রাতেই দখলকারীদের কাজ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তারা কিভাবে কাজ করছে এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/মাকসুদুর রহমান কামাল/নারায়ণগঞ্জ

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here