জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। ৬ মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর গণসংযোগ, মাইকিং, পোস্টার ব্যানার, লিফলেট, মিছিল-মিটিংয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহর। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত পেশাদার শিল্পীদের কণ্ঠে রেকর্ড করা গানের তালে তালে প্রার্থীদের গুণকীর্তন করে চলছে প্রচারণা।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপের যেন শেষ নেই। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। কেউ কেউ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঘোষণা করছেন ইশতেহার।

এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের সংখ্যাই বেশি। প্রচার-প্রচারণায় প্রবীণদের চাইতে নবীনরা অনেক এগিয়ে রয়েছেন। ফলে পৌর এলাকার সর্বত্রই প্রচারণায় এখন মুখরিত। এদিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে প্রচারণায় নতুন ছন্দ খুঁজে পেয়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো, কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও হুমকি দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা। রয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও প্রচারে বাধাসহ নানা অভিযোগ। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে এ ধরনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ধানের শীষ ও মোবাইল প্রতীকের দুই মেয়র ও একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী। এতে দিন যত যাচ্ছে নির্বাচনে তত উত্তেজনা বাড়ছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমাবেশ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বিএনপি প্রার্থীসহ তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের দাবি জানালেও উত্তাপ ছড়ায় নির্বাচনী মাঠে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া এখনো কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সব দ্বিধাদন্দ্ব ভুলে নৌকাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এবার আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। তারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। অপরদিকে এখানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে অনেকটা ঢিমেতালে। এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শোডাউন করে তারা কোনো ওয়ার্ডে কর্মী সমাবেশ করতে পারেননি। তবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক মনির আহম্মেদ প্রতিদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। রাতদিন জনগণের দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাইছেন তারা। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, দল নয় ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন তারা। এলাকার উন্নয়নে দলের মনোনয়ন মুখ্য নয়। এক্ষেত্রে প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতাই আসল ব্যাপার। কাজেই তারা কে কোন দলের প্রার্থী তা বিবেচনায় নিতে চান না তারা। তারা ভোট দেবেন প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও যোগ্যতা দেখে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুর পৌরসভার ভোট গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ২৩ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৯৯০ জন ও মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৬৪১ জন। এখানে ৯টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৩টি। প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মেয়র পদে ৬, সাধারণ সদস্য পদে ৫০ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭ জন। নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট (নৌকা), পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক দুই বারের মেয়র এবিএম জিলানী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক মনির আহম্মেদ (মোবাইল ফোন), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওলানা আব্দুল খালেক (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মো. নাছির উদ্দিন সগির (পানির জগ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর শ্রমিকলীগ নেতা মাসুদ উদ্দিন (নারিকেল গাছ)।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, পৌর মেয়র নির্বাচিত হলে পৌর পিতা নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবো। আওয়ামী লীগ ও নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবং সরকারের কাছ থেকে বরাদ্ধ আনতে এখানে নৌকার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও দরিদ্র অসহায়-অস্বচ্ছল মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষে পৌরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবিএম জিলানী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে আমার জয় সুনিশ্চিত। কিন্তু এখনো এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে ওঠেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মোবাইল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মনির আহম্মেদ বলেন, জনগণের ভোটে আমি বিজয়ী হতে পারলে পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবো। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামী ২৮ তারিখ পৌরবাসী তাদের যোগ্য প্রার্থী বেছে নেবেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, ভোট গ্রহণে ইতোমধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রচারণা নিয়ে কিছু কিছু অভিযোগ শুনেছি। নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here