ব্রেকিং নিউজ

রাস্তার নিম্নমানের কাজ বন্ধের দাবী

আব্দুর রউফ হাযদার, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধি :: প্রিয় এলাকাবাসী, যেখানে করোনা ভাইরাসের জন্য পুরো বিশ্ব থমকে গেছে, সেখানে অসাধু কিছু লোক, কন্ট্রাক্টর, ইঞ্জিনিয়ার এক হয়ে উপজেলা মোড় থেকে নিতাই মুশুরুত পানিয়ালপুকুর (বেলতলি বাজার) রাস্তার কাজ করছে যাচ্ছেতাই ভাবে। কন্ট্রাক্ট পেপারের তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছেমতো কাজ করছে তারা নিম্ন মানের বিটুমিন অল্প পরিমানে দিয়ে, কোন প্রকার পাথর না বিছিয়েই রোলার দিয়ে হালকা চাপ দিয়েই চলে যাচ্ছে। যার ফলে নতুন তৈরিকৃত রাস্তা থেকে পাথর এখনি সরে যাচ্ছে কোন ভারি যানবাহন চলাচল করলেই। দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বললে জানা যায়, এই কাজ এভাবেই করার নিয়ম। তাহলে সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকারের এই রাস্তাটি এমন নিম্নমানের কাজ হলে কি দেখার কেউ নাই। যারা মোটা অংকের ঘুষ খেয়ে এহেন কাজের সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কি কেউ নাই। যথোপযুক্ত ব্যাক্তিবর্গ, ইউএনও মহাদয় ও প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছি। এলাকাবাসীর স্বার্থে মরণঘাতী করোনাথভাইরাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এমন নিম্নমানের কাজ বন্ধ রেখে পরবর্তীতে কন্ট্রাক্ট পেপার অনুযায়ী কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি।

এটি সোস্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে একজন এলাকাবাসীর বক্তব্য।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আমতলী মোড় থেকে বাড়ীঝাড় পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্তকরণ ও কার্পেটিং এর কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তত্বাবধানে নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডিভোলেভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০১৮-১৯অর্থ বছরে উপজেলার আমতলী মোড় থেকে বাবরীঝাড় পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৮৫কিলোমিটার রাস্তা ৯ফুট থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত করণের জন্য ১ কোটি ৮৫লাখ ৩৬ হাজার ৬০পয়সা বরাদ্দ ধরে দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রে কার্যাদেশ পায় নীলফামারী সদরের নীল প্রতিভাপাড়ার ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। এসময় চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৭০লাখ ৯৬হাজার ৫৮টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের পাথর ও বিটুমিন দিয়ে করা হচ্ছে কাপেটিং। ২৫ মিলি পাথর দিয়ে কার্পেটিং করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিটুমিল যেন অল্প লাগে সেজন্য শুধু নামমাত্র প্রাইম কোড করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। এতে করে রাস্তাটির টেকসই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।

এদিকে প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ সংবলিত সাইন বোর্ড দেয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার তা না করে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন বলে প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা দাবি করে। এ ব্যাপারে তদারকি কমকর্তাকে কয়েকবার তারা মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়াও হেরিং বন্ডে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে।

স্থানীয় ইয়াসির আরাফাত আরেফিন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে সব সময় আমাদের যাতায়াত। রাস্তার কাজটি ভাল হলে এলাকাবাসী বহুদিন এর সুফল ভোগ করবে।কিন্তু ঠিকাদারকে বার বার বলার পর রাস্তার কাজ নিয়মানুযায়ী করছে না।

এলাকাবাসী মোনায়েম ইসলাম রাসেল বলেন, রাস্তার কাজ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে না।তিনি আরো অভিযোগ করেন সহকারী প্রকৌসলীর উপস্থিতে চলছে নিম্নমানের কাজ। ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি।

উপজেলা প্রকৌশল মজিদুল ইসলাম বলেন, কাজে উনিশ বিশ হতে পারে। রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজে কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঝিনাইদহ সীমান্তে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট :: হঠাৎ করেই ঝিনাইদহ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে। ...