ডেস্ক রিপোর্ট :: রাজধানীতে চাঁদাবাজ চক্রের প্রধানসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) হতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকা হতে তাদের আটক করা হয়। চাঁদাবাজির শিকার এক ব্যক্তির মামলার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, আ. হান্নান, দেলোয়ার হোসেন, সোহাগ ও খোরশেদ আলম। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল, সিমকার্ড ও বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য মালিবাগের জিসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির শিকার ওই ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে। তারা জানায়, বর্তমান তাদের সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জেলহাজতে আছে। তাদের জামিন করতে ও সংগঠন পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই সমাজের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের নিকট হতে তারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ওই ব্যক্তির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে।

পরে, ওই ব্যক্তি বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে চাঁদাবাজরা তাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে অপহরণ ও হত্যার হুমকি প্রদান করে। একপর্যায়ে ভীত হয়ে আসামিদের দেওয়া বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা পাঠায় সে। এরপরও তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে তাকে এবং তার পরিবারকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করে। তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে বই ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সদস্য পরিচিতি (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তালিকা) বই সংগ্রহ করে। সেখান থেকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী দাবি করে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদান করে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here