ডেস্ক রিপোর্ট:: রমজানের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে চলছে এক সপ্তাহের লকডাউন। মানুষের চলাফেরা ও গাড়ি চলাচলেও আনা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি মোকাম চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য প্রথমে যায় পাইকারি মোকামগুলোতে। সেখান থেকে যায় সারাদেশে।

পাইকারি মোকামে সীমিত আকারে ভোগ্যপণ্যের কিছু দোকান খোলা থাকলেও বন্ধ আছে বেশিরভাগ দোকান। এ কারণে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পরিমাণ কমে গেছে হঠাৎ করে। চাল, ডাল, তেল, গম, ছোলা, খেজুরসহ রমজানের পণ্য নিয়ে আসা কয়েক লাখ টন পণ্য পড়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পড়ে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে করে আনা আপেল, কমলা, আঙুরসহ নানা ধরনের ফলমূলও। বিশেষ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর খোলা রাখা হলেও লকডাউনের প্রভাবে কমে গেছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।

চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত থাকলেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, পাইকারি মোকামে বিক্রি কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে পণ্য খালাস করছেন না ব্যবসায়ীরা। বন্দর সীমায় এখন বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ভাসছে শতাধিক জাহাজ। এসব জাহাজে আছে রমজানের পণ্যও। বাজার ধরতে রমজানের আগেই এসব পণ্য দেশে এনেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু লকডাউনের কারণে এলোমেলো হয়ে গেছে তাদের ছক।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে ব্যবসায়ীদের কোনো বাধা নেই। কিন্তু লকডাউনের কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। রমজানের আগে পণ্য বেচাকেনার হিড়িক থাকে পাইকারি মোকামে। বিধিনিষেধের কারণে সেখানেও বেচাকেনা সেভাবে হচ্ছে না। আবার পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গুদামে পণ্য নিতে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে খালাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হলে পণ্য খালাসের পরিমাণও বাড়বে।

রমজানের পণ্য আমদানি করা বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, রমজানের আগমুহূর্তে এ লকডাউন আবারও বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি করবে আমাদের। এ ক্ষতিটা কিছুটা কমানো যাবে যদি সীমিত পরিসরে হলেও পাইকারি মোকাম খোলা থাকে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে। বন্দরে এখনও আমাদের বিপুল পরিমাণ পণ্য আছে। এগুলো বিপণন করতে যাতে কোথাও বাধার মুখোমুখি না হই। শ্রমিকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে পারেন সে ব্যপারেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

রমজান সামনে রেখে গত ১৫ দিনে বিপুল সংখ্যক জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বন্দরের বহির্নোঙরে ১ এপ্রিল আসে ৪৫টি জাহাজ। এর মধ্যে দশটি জাহাজে প্রায় পাঁচ লাখ টন ভোগ্যপণ্য রয়েছে। ১ এপ্রিল বন্দরে এসে এখনও পণ্য খালাস শেষ করতে পারেনি দশটি জাহাজ। এর মধ্যে চিনি তৈরির কাঁচামাল আছে দুটি জাহাজে। ১ এপ্রিল আসা একটি জাহাজে আছে ৫৫ হাজার ৫০০ টন চিনি। একই দিন আসা আরেকটি জাহাজে আছে ৫৪ হাজার ১৪ টন চিনি। বন্দরে এখন ভোজ্যতেলের জাহাজ আছে তিনটি। ১ এপ্রিল আসা এ তিনটি জাহাজে ভোজ্যতেল আছে প্রায় দেড় লাখ টন। গমবোঝাই ৫টি জাহাজে আছে প্রায় তিন লাখ টন পণ্য। জানা গেছে, ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৫টি জাহাজ এলেও ২ এপ্রিল এসেছে ১৪টি জাহাজ। ৩, ৪ ও ৫ এপ্রিল এসেছে যথাক্রমে তিনটি, আটটি ও দুটি। আগামী ১৫ দিনে আরও অর্ধশত জাহাজ আসবে চট্টগ্রাম বন্দরে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, লকডাউনের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। রমজানের পণ্য খালাসে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্য খালাসে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি না হয় সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি। কিন্তু পরিবহন সংকটের কারণে খালাস কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here