ব্রেকিং নিউজ

‘রক্ষক যখন ভক্ষক’

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারকারী চক্রের সঙ্গে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই -এর তদন্তে। ওই পাচার চক্রে বিএসএফ বাহিনীর বেশ কয়েকজন পদস্থ প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, কাস্টমস ও পুলিশের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সমীর কুমার মিত্র বলছিলেন পদস্থ কর্মকর্তারা গরু পাচার চক্রে জড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

“রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে তখন আর সুরক্ষা বলে কিছু থাকে না। যে বাহিনী জন্মলগ্ন থেকে দেশের জন্য আর বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছে, বিশ্বের বৃহত্তম সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, তার কিছু অফিসার পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন, এটা অকল্পনীয়। বিএসএফের জন্য কলঙ্কজনক একটা ঘটনা,” মন্তব্য সমীর কুমার মিত্রের ।

তিনি আরও বলছিলেন, “যেভাবে গরু পাচারের গোটা প্রক্রিয়াটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, এটাই বেশি চিন্তার। কিন্তু আমি বলব বিএসএফ তো শুধু সীমান্তে বলবৎ থাকে। পশ্চিম ভারত থেকে বেশ কয়েকটা রাজ্য পেরিয়ে যে গরুগুলো আসছে, সেটা সেখানকার পুলিশ বা শুল্ক বিভাগ কেন আটকাচ্ছে না।

”তাদেরও তো দায়িত্ব ছিল। যদিও এই কথার অর্থ এটা যেন না করা হয়, যেসব বিএসএফ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছি,” বলেন সমীর কুমার মিত্র।

যে তিন বছর পাচার চক্রটি কাজ করেছে, তার মধ্যেই কোনও সিনিয়ার অফিসার প্রায় ২০০ কোটি টাকা, কেউ ৩০০ কোটি টাকা রোজগার করেছেন চক্রের মাধ্যমে – এমনটাই জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তারা কে কোথায় জমি-বাড়ি বা সম্পত্তি কিনেছেন, সেই তথ্যও যোগাড় করেছেন তদন্তকারীরা।

এছাড়াও পাচারের রোজগারের ভাগ নিয়মিত গেছে কাস্টমস, পুলিশের একাংশ আর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এবং মূলত মুর্শিদাবাদ আর কলকাতা থেকেই চক্রটি কাজ চালাত বলে বিএসএফ-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার তথ্য মতে, গরু প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে লাভ ঘরে তুলত পাচারচক্র । যে প্রাথমিক হিসাব তদন্তকারীরা করেছেন, তাতে শুধু দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চল দিয়েই প্রতিরাতে ১৩-১৪ কোটি টাকা মূল্যের গরু পাচার চলত বছর তিনেক ধরে।

ঘটনাচক্রে ২০১৮ সালে একজন কমান্ডান্ট এবং পাচার চক্রের মাথা ধরা পড়ার পরে কয়েকজন অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয় আর তারপরেই সীমান্তে গরু পাচার অনেকটা কমে যায়।

সমীর কুমার মিত্র বলছিলেন সীমান্তের দায়িত্বে বিএসএফ আছে ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্মচারী নন এমন ব্যক্তিদের নামও হয়ত তদন্তে উঠে আসতে পারে।

“সরকারি কর্মচারী বলে বিএসএফের অফিসারদের নাম উঠে এসেছে প্রথমে। কিন্তু যদি নিরপেক্ষভাবে এবং যথার্থ তদন্ত হয়, তাহলে এমন ব্যক্তিদের নামও বেরিয়ে আসতে পারে, যারা সরকারি কর্মী নন,” বলছিলেন সমীর কুমার মিত্র ।
পাচার চক্র যেভাবে কাজ চালাত, তারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে তদন্তের প্রাথমিক স্তরেই।

উত্তর বা পশ্চিম ভারত থেকে গরু এনে প্রথমে বীরভূমের একটি জায়গায় রাখা হতো। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হতো গরুগুলিকে। বি এস এফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগে থেকেই ঠিক করা থাকত যে কোন জায়গা দিয়ে কত গরু পাচার হবে। নিখুঁত হিসাব রাখা হতো প্রতিটা গরুর।

আবার পাচারের সময়ে যেসব গরু ধরা পড়ত, সেগুলিকে কখনও বাছুর বলে দেখিয়ে বা কখনও পশ্চিমবঙ্গের গরু বলে দেখানো হত – যার দাম পশ্চিম ভারতের গরুর থেকে বহুগুণ কম। ধরাপড়া গরু আবার কাস্টমসের মাধ্যমে নিলাম করা হত যেগুলো কম দামে কিনে নিতো পাচারকারীরাই বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক রিপোর্ট :: দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার ষষ্ঠী পূজার ...