যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ালেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী
সরিতা নায়ার

ডেস্ক নিউজ :: এক সুন্দরী মহিলার সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়াল কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ওমান চান্ডির নাম৷ কেবল মুখ্যমন্ত্রীই নন, তাঁর মন্ত্রিসভার আরও  দুই সদস্য এবং কংগ্রেসের কয়েকজন কেষ্টবিষ্টু নেতাও নাকি ওই মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম মুহূর্ত কাটিয়েছেন৷

আর তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের অপেক্ষায়৷ সেই মহিলার নাম সরিতা নায়ার৷ সোলার কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত৷ তবে সরিতা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ মানছে না কংগ্রেসও৷ এ খবর প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনি।
সংবাদে বলা হয়, স্বভাবতই ভোটের কয়েক মাস আগে এই হাতে গরম  ইস্যুকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমে পড়ল সিপিএম-সহ বামেরা৷ কেরলের বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রণ্ট অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী ওমান চান্ডির পদত্যাগ দাবি করেছে৷ যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ কেরল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব৷
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যের বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রণ্ট বৈঠকে বসে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছে৷ অভিযোগ, সরিতা নায়ারের সঙ্গে যৌন কেচ্ছায় জড়িয়ে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও কেরলের শ্রমমন্ত্রী শিবু বেবি জন এবং পর্যটনমন্ত্রী এ পি অনিলকুমার৷  তালিকায় নাম রয়েছে কংগ্রেস বিধায়ক হাইবি ইডেন এবং নেতা আরিয়াদন সৌকতেরও৷
এঁরা সকলেই নাকি আলাদা আলাদা করে সরিতার ‘বিশেষ সান্নিদ্ধ লাভ’ করেছেন৷ আর সেই সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রয়েছে বিজু রাধাকৃষ্ণনের কাছে৷ এই বিজুই সোলার কেলেঙ্কারির তদন্তে গঠিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশনের সামনে এই কথা জানান৷
এক সময়ে এই বিজু এবং সরিতা বা কেরলের বাণ্টি আউর বাবলির যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল টিম সোলার  নামে একটি কোম্পানি৷ ২০১৩ সালের ঘটনা৷ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাকে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল সরবরাহের নাম করে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাত্‍ করে বলে অভিযোগ৷
অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থেকে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যর ‘স্নেহছায়াতেই’ বড় হয়ে ওঠে টিম সোলার৷ আর তার বদলেই নাকি নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন সরিতা৷ তার পর অবশ্য পেরিয়ার নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে৷ সরিতা পুলিশের জালে ধরাও পড়েন৷ আবার নিজের স্ত্রীকে খুন করার অপরাধে যাবজ্জীবন জেল হয় বিজুর৷ সেই বিজুই এখন তার প্রাক্তন ছায়াসঙ্গিনীর বিরু‌দ্ধে অভিযোগ এনে হইচই ফেলে দিয়েছে এই দক্ষিণী রাজ্যে৷
এই বিষয়ে তিরুবনন্তপুরম থেকে ফোনে কেরল রাজ্য বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রণ্টের আহ্বায়ক ভাইকম বিশ্বন জানালেন, “আমরা চাই আগে মুখ্যমন্ত্রীর গদি ছাড়ুন চান্ডি৷ তার পরই নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব৷” আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা ভি এস অচ্যুতানন্দন বলছেন, “কেরলের মা, বোনেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পদত্যাগ করা উচিত চান্ডির৷” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেরলের শ্রমমন্ত্রী শিবু বেবি জন বলেছেন, “একজন খুনের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্তের অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই৷”
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here