রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ি থেকে :: রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেল শাহেলা নামের ১৯ বছরের এক তরুণী। শুক্রবার দিবাগত রাতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে এই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায়।

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় শনিবার সন্ধ্যে পর্যন্ত কোনো মামলা কিংবা কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যের সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় উদ্ধার হওয়া তরুণী জানায়, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার বাসিন্দা লিনা (২৩) নামের একটি মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয়। লিনার সাথে একাধিকবার তার দেখাও হয়েছে। গত সোমবার লিনা তার জন্মদিন উপলক্ষে শাহেলাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ করে। এজন্য লিনা টিটো (২১) নামের একটি ছেলেকে তার ভাই পরিচয়ে তাকে আনতে পাঠায়। গত বৃহস্পতিবার টিটো তরুণীটিকে সাথে করে নিয়ে আসে এবং দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পাশে একটি বাড়িতে রাখে। একপর্যায়ে তরুণীটি জানতে পারে তাকে যৌনপল্লীতে বিক্রির জন্য এখানে রাখা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জইানতে পারেন। পরে ওই বাড়ি থেকে তরুণীটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া তরুণীর পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিষয়টি গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়। পরে তার নির্দেশ মোতাবেক রাতে ওই তরুণীকে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা মুক্তি মহিলা সমিতি (এমএমএস) পরিচালিত সেভ হোমে রাখা হয়।।

মুক্তি মহিলা সমিতির কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী স্যারের নির্দেশে আমরা ওই তরুণীটিকে সেভ হোমে রাখি। পরবর্তীতে তাদের নির্দেশ মোতাবেক শনিবার বিকেলে আমরা ওই তরুণীটিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পৌছে দিয়।

এব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, শনিবার ভোর ৩ টার দিকে পুলিশের জাতীয় সেবা ৯৯৯ থেকে ফোনে ওই তরুণীটিকে উদ্ধারের নির্দেশনা আসে। দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে মুক্তি মহিলা সমিতি থেকে বলা হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই তরুণীকে এখানে রেখে গেছেন, তাই এই ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করতে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে। শনিবার বিকেলে সমিতির দুই কর্মী দিয়ে তরুণীটিকে থানায় পাঠিয়ে দেয়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরামর্শে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তার পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here