ব্রেকিং নিউজ

যেসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন পদক পাচ্ছেন

জনপ্রশাসন পদকস্টাফ রিপোর্টার :: জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৃজনশীল ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ও জেলাপর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ প্রদান করা হবে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেবেন। জাতীয়পর্যায়ের এই পদক গ্রহণের জন্য মনোনীতদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেয়া হয়েছে। গত বছর থেকে এই পদক প্রথম চালু করা হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বলেন, জনপ্রশাসন এখন উন্নয়ন প্রশাসন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও সংস্কারের পাশাপাশি জনপ্রশাসনের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার গুরুত্ব বেড়েছে। সে জন্য এগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া ও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই পদক প্রবর্তন করা হয়েছে।

জেলাপর্যায়ে পদকপ্রাপ্তরা হলেন : সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শ্রেণিতে জনপ্রশাসন পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব নাজমুল আহসান। নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য তিনি জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ পাচ্ছেন। এর আগে তিনি খুলনা জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেখানে তিনি নারী উন্নয়নে অনেক অবদান রাখেন। কমিউনিটি বেজড কালচারাল ইকো ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে অবদান রাখায় জনপ্রশাসন পদক পাবেন খুলনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ইউএনও ছিলেন। সাঁতার শিখুন, জীবনের জন্য সাঁতার প্রকল্পের জন্য পদক পাচ্ছেন যশোর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কেএম মামুন উজ্জামান। এর আগে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার ইউএনও ছিলেন।

প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধি ও খাবার বড়ি ড্রপ আউটের হার কমানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য পদক পাবেন কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাসিমা ইয়াসমিন। সবুজ তারাগঞ্জ গুড়ি প্রকল্পের জন্য জনপ্রশাসন পদক পাবেন রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মোছা. জিলুফা সুলতানা। মরিপুর চা বাগানে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে শিক্ষা কার্যক্রম চালুকরণের জন্য পদক পাবেন সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইউএনও হরে জান্নাত।

জেলাপর্যায়ের সাধারণ ক্ষেত্রে দলগত শ্রেণিতে জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে টাঙ্গাইল জেলার একটি গ্রুপকে। টাঙ্গাইল জেলার লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং ডিসি লেক ও ডিসি লেক শিশুপার্কের কাজে অবদান রাখার জন্য দলগতভাবে পদক প্রদান করা হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বের এই গ্রুপকে। তিনি এর আগে টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসক ছিলেন। এই গ্রুপের সদস্যরা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুরিনা সুলতানা। এর আগে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছিলেন।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সানোয়ারুল হক। এর আগে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আবদুর রহিম সুজনও এই গ্রুপের সদস্য।

অবহেলিত হিজড়া জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য দলগতভাবে জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ পাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি প্রতিনিধি দল। এই দলের দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসকে। দলের সদস্যরা হলেন- যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমা বেগম, সদর উপজেলার মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তা শরিফা বেগম ও সদর উপজেলার সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া অপরাজিত যশোরের (যশোর জেলার নির্যাতিত নারী শিশুদের জন্য আইনী সহায়তা প্রকল্পের) জন্য প্রদক পাচ্ছেন যশোর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম। বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভিক্ষুকমুক্ত নড়াইল জেলা গঠনের অবদানের জন্য এবার জনপ্রশাসন পদক পাচ্ছেন রাজশাহী জেলার জেলা প্রশাসক ও নড়াইল জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি গ্রুপ। তবে জেলাপর্যায়ে এবার সাধারণ (প্রাতিষ্ঠানিক) কারিগরি (ব্যক্তিগত) ও কারিগরি (প্রাতিষ্ঠানিক) ক্যাটাগরিতে কোনো মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। এ ছাড়া জাতীয়পর্যায়ে ১১ কর্মকর্তা ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক ২০১৭ প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয়পর্যায়ে পদকপ্রাপ্তরা নিজের নামের সঙ্গে পিএএ (পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাওয়ার্ডি) লিখতে পারবেন। জাতীয়পর্যায়ে তিন ক্যাটাগরির পুরস্কারপ্রাপ্তরা ১৮ ক্যারেট মানের এক ভরি ওজনের স্বর্ণপদক এবং সনদ দেয়া হবে। এর বাইরে জাতীয়পর্যায়ে ব্যক্তি শ্রেণিতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা এবং দলগত অবদানের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে শুধু পদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে। জেলাপর্যায়ে ব্যক্তি শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা সনদ ও ৫০ হাজার টাকা এবং দলগত শ্রেণিতে বিজয়ীদের সনদের সঙ্গে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদৎ হোসেন হাজরা (৫৩) মারা গেছেন। রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিেছন হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহ্ আলম। সোমবার সকালে সমকালকে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদৎ হোসেন হাজরা। রোববার সকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় অংশ নেন। এ সময় অসুস্থতা বোধ করলে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান। রাত সোয়া ১০টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।' উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছিলেন ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন হাজরা। যোগদানের ১৩ দিনের মাথায় হবিগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানকে হারিযে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার :: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদৎ ...