বাংলা প্রেস :: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত প্রাঙ্গনে বাংলাদেশি হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত খুনির শাস্তির দাবিতে বিক্ষুন্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। স্ট্যামফোর্ডে দুর্বৃত্তের হামলায় কামাল হত্যার সাথে জড়িতগ্রেপ্তারকৃত খুনিরদৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২ শতাধিক কানেকটিকাটের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ করে 
গত ২৭ আগষ্ট বুধবার ভোরে কামালকে হত্যার ১৩ ঘন্টাপর পুলিশ শোটা মেকোসভিলি (২৯) কে গ্রেফতার করেন। ওইদিন তার বাড়িতে তল্লাসি চালিয়ে খুনের সাথে জড়িত থাকার কিছু আলামত উদ্ধার করে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ডলার উদ্ধারের পর কামাল হত্যার সাথে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হন। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে ধৃত শোটা মেকোসভিলি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে ১ মিলিয়ন ডলারের জামিন নামা ধার্য্য করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। গত শুক্রবার আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষুন্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বিজ্ঞ বিচারক খুনি শোটা মেকোসভিলির জামিন নামায় আরও ২ লক্ষ ডলার বাড়িয়ে দেন। উক্ত সমাবেশে থেকে কামাল হত্যার সাথে জড়িত গ্রেপ্তারকৃতশোটা মেকোসভিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানান হয়
বিক্ষোভকালে সবার হাতে ছিল নানা লেখাযুক্ত প্লাকার্ড ও ফেস্টুন। গত ২৯ আগষ্ট শুক্রবার জুমার নামজের পর পাঁচ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে স্ট্যামফোর্ডের ইসলামিক সেন্টারে নিহত মোহাম্মদ কামালের নামাজে জানাজার পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা  কামালের হত্যাকারীদের অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তারেরদাবিতে পুলিশ প্রশাসনসহ আমেরিকান মিডিয়া কর্মিদের সামনে একই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।   
গত ২৭ আগষ্ট বুধবার ভোরে কামালকে হত্যার পর রাস্তার পাশে তাঁর লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডোলিট রোডের ধারে কর্মরত শ্রমিকরা প্রথমে কামালের দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত কামালের দেহে ১৫টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। 
নিহত কামাল ১৯৯২ সালে ডিভি লটারি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড শহরে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ও চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তাঁর দেশের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার চিপাতলী বখতিয়ার পাড়ায় বলে স্বজনরা জানান।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here