ডেস্ক রিপোর্ট::  যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) আগে দেশটির ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর ও ফোর্ট ওয়ার্থে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। গত তিনদিনে বন্দুক সহিংসতায় প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বন্দুক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের ব্যর্থতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে এসব হামলার ঘটনা। টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে স্থানীয় একটি উৎসবে এলোপাতাড়ি গোলাগুলিতে তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে।

ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় ফিলাডেলফিয়ায় পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক কিশোর রয়েছে। বুলেট-প্রুফ পোশাক পরিহিত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির গুলিতে হতাহত হয়েছেন তারা।

এর আগে, রোববার মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে প্রতিবেশিদের ব্লক পার্টিতে বন্দুক হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। এই ঘটনার একদিন পর সোমবার রাতে বাল্টিমোরে ফের গুলির ঘটনা ঘটে। তবে পৃথক এই তিন গুলির ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল আউটলো বলেছেন, এই রাজ্যে গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গভীর রাতের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেব্যাপারে আমাদের একেবারেই কোনও ধারণা নেই।

ফোর্ট ওয়ার্থের পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে গুলির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শন মুরে বলেছেন, পারিবারিক বিবাদ কিংবা গ্যাং-সংশ্লিষ্ট কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমরা জানি না। এটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ বলেছে, তারা বাল্টিমোরের গুলির ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজনকে খুঁজছে।

ক্রমবর্ধমান গুলিবর্ষণ ও বন্দুক সহিংসতার ঘটনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে রীতিমতো লড়াই করছে। দেশটির বন্দুক সহিংসতা সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩৪০টির বেশি ব্ন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আর প্রত্যেকটি সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে ৪ জন করে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here