যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার কন্যা বিজয়ী

ডেস্ক নিউজ :: যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় হলেও এই দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার কন্যাই বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক, রুশনারা আলী ও আপসানা বেগম। আপসানা এবারই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নির্বাচনে এবার লেবার পার্টি সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করলেও বাংলাদেশি এই চার কন্যা শুধু জয়লাভই করেননি, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন। যে চার আসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা লড়েছেন, সেখানে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা অর্ধেক ভোটও পাননি।

টিউলিপ সিদ্দিক লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে ২৮ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। লন্ডনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে টিউলিপের প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জনি লাক পেয়েছেন ১৩ হাজার ৮৯২ ভোট। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়া টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে।

টিউলিপের মতো রূপা হকও টানা তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ২৮ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জুলিয়ান গেল্যান্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩২ ভোট। টিউলিপের মতো রূপাও ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। রূপা হকের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের পাবনায়। তিনি কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।

টিউলিপ ও রূপার আগে থেকেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী রুশনারা আলী এবারের নির্বাচনেও পেয়েছেন বড় জয়। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার পার্টির এই প্রার্থী ৪৪ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী নিকোলাস স্টোভোল্ড পেয়েছেন ৬ হাজার ৫২৮ ভোট। সিলেটের বিশ্বনাথে জন্মগ্রহণ করা রুশনারা সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। অক্সফোর্ডের সেইন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডিগ্রি নেওয়া রুশনারা ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো লেবার পার্টির টিকিটে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া লেবার পার্টির এমপি হয়েও কনজারভেটিভ সরকারের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আপসানা বেগম এবারই প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসনে ৩৮ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৬ ভোট। কুইনমেরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতিতে লেখাপড়া করা আপসানার জন্ম যুক্তরাজ্যে হলেও তার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের লুদুরপুর এলাকায়। তার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এইচএসবিসি পুরস্কার পেল আট প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার ::  দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) আট প্রতিষ্ঠানকে ...