ব্রেকিং নিউজ

যত্রতত্র এলপি গ্যাসের দোকান: নির্বিকার প্রশাসন

যত্রতত্র এলপি গ্যাসের দোকান

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই লক্ষ্মীপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্রে গড়ে উঠেছে এলপি গ্যাসসহ সিলিন্ডারের দোকান। লাইসেন্স বিহীন এসব দোকান গুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ওই জ্বালানি। আইনের তোয়াক্কা না করেই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই পুরো জেলার প্রতিটি বাজারেই চলছে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতি ও অনুমতিবিহীন অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা অদৃশ্য কারণে দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। খোলামেলা ভাবে গ্যাস বিক্রি করায় চরম ঝুঁকিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে ক্রেতা, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অন্য ব্যবসার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও প্রধান সড়কের পার্শ্বে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। ফলে যে কোন সময় বিস্ফোরণ হয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। এলপি গ্যাস কোম্পানি গুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদ আইন অনুস্বরণ করছে না।

এতে বাজার গুলোসহ মহা-সড়কের পার্শ্বে থাকা পানের দোকান, লন্ড্রি দোকান, চায়ের দোকান, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, রড সিমেন্টের দোকানসহ অনিরাপদ স্থানে অগ্নিনির্বাপক বা অক্সিজেন ছাড়া অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী শঙ্কিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে পুরোপুরি নির্বিকার।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। আবার এই সব মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার গাড়িতে বহন করা হচ্ছে এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আটটির কম গ্যাস সিলিন্ডার রাখলে লাইসেন্স প্রয়োজন হবে না, আইনের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছে দোকানিরা। এ সব দোকান গুলোতে নেই প্রাথমিক বিপর্যয় রক্ষায় ড্রাই পাউডার ও সিও ২ সরঞ্জামসহ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।

এদিকে বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে না বলা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আটটি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ নং ধারায় বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে।

এ আইন অমান্য করলে যে কোনো ব্যবসায়ী অনূন্যতম দুই বছর ও অনধিক পাঁচ বছরের জেলসহ অনধিক ৫০ হাজার টাকায় দন্ডিত হবেন এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারের থাকার বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টর এডভোকেট মোশারফ হোসেন মিঠু বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্ররোচিত হয়ে আইন অনুসরণ না করে ব্যবসা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। একাধিক দোকানি এ ব্যবসার আইনগত বাধ্য বাধকতা সম্পর্কে জানলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন তারা।

যত্রতত্রে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার কারণে এলাকাবাসীসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হুমকির মুখে রয়েছেন। যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নজর দেয়া দরকার।

লক্ষ্মীপুর শহরের ওমেগা এলপি গ্যাসের ডিলার সৌরব হোসেন রুবেল জানান, লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কোন রকম অভিযান না থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা খোলামেলাভাবে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, ইতিমধ্যে আমি এ ব্যাপারে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কোন অবস্থাতেই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এ ব্যবসা করা বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা যাবে না।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চলন্ত সিএনজিতে ব্যবসায়ীকে হত্যা: দুজনের স্বীকারোক্তি

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: টাকা আত্মসাৎ করতে চলন্ত সিএনজিতে ব্যবসায়ী ...