মৌসুমীকে হারিয়ে সভাপতি হলেন মিশা সওদাগর

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমীকে হারিয়ে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান।

অনেক প্রতীক্ষার পর সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার রাত ১টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন।

এবার ২১টি পদের বিপরীতে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৮৬জন।

নির্বাচিত হওয়ার পর গণমাধ্যমকে মিশা শওদাগর বলেন, ‘সবার দোয়া ও ভালোবাসায় আবারও জয়ী হতে পেরেছি। চলচ্চিত্রের সব শিল্পী, কলাকুশলীসহ এফডিসিসহ সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জয়ী হওয়ার পরই আমার প্রথম কাজ হবে ইশেতেহারে যা যা বলেছিলাম তার বাস্তবায়ন ঘটানো। শিল্পীদের সবাইকে নিয়ে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করে যাব। আমাদের গতবার যে কাজগুলো করা হয়নি সেগুলো এবার পূরণ করব।’

সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পীরা যাতে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করব। শিল্পীরা কেউ হারেনি। আমরা আগামীতে যেন বিগত বছরের কাজের গতিটা ধরে রাখতে পারি সবার কাছে এই দোয়াই চাই। শিল্পী সমিতির সব ভোটারদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের প্যানেলকে ভালোবেসে ও বিশ্বাস করে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। এবার আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোটের আগ থেকে উত্তাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠুভাবেই।

এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচন নানা কারণেই ব্যতিক্রম। ভোট গ্রহণের আগে শিল্পীদের মধ্যে চলেছে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী সভাপতি পদে লড়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

সভাপতি পদে মিশা সওদাগর পেয়েছেন ২২৭ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্রপ্রার্থী মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট। সহ-সভাপতি পদ দুটিতে মনোয়ার হোসেন ডিপজল (৩১১) ও রুবেল (২৯৩) ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নানা শাহ ৯৮ ভোট পেয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইলিয়াস কোবরা ৬৮ ভোট পেয়েছেন।

সহ-সম্পাদক পদে আরমান ২৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি সাংকো পাঞ্জা ৭১ ভোট পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মামনু ইমন পেয়েছেন (২৪৫) ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ পেয়েছেন ১০৫ ভোট।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাকির হোসেন ২৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বি ডন পেয়েছেন ১২২ ভোট।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একক প্রার্থী থাকায় সুব্রতকে বিজয়ী ঘোষণা করায় ওই পদটিতে ভোট গ্রহণ হয়নি। কার্যকরী সদস্য পদ রয়েছে ১১টি। এই পদগুলোর জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তাদের প্রাপ্ত ভোট হল-

অঞ্জনা সুলতানা-৩২৪, অরুনা বিশ্বাস-৩১৫, আলীরাজ-৩৩৬, আফজাল শরীফ-২৯৩,আসিফ ইকবাল-৩১৪, আলেক জান্ডার বো-৩৩৭, জেসমিন-৩০৯, জয় চৌধুরী-৩০৩, বাপ্পারাজ-৩০১, মারুফ আকিব-২৭৩, রোজিনা-৩২০। এছাড়া পরাজিত তিন প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট হল- নাসরিন (১৮১), রঞ্জিতা (১২১) ও শামীম খান (চিকন আলী) ২০৩।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আইসিপিডি অর্জনে সাউথ সাউথ ও ত্রিমাত্রিক অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

সোহানুর রহমান, কেনিয়ার নাইরোবি থেকে :: নাইরোবিতে আইসিপিডি+২৫ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থমন্ত্রী ...