ডেস্ক রিপোর্ট :: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদা- অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অন্ন ও বস্ত্রের সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করেছেন। এখন গৃহহীনদের মাথা গোঁজার জন্য ঠাঁই করে দিচ্ছেন।’

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়নের ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি ও ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়াম থেকে সেই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন তথ্যমন্ত্রীসহ রাঙ্গুনিয়ার উপকারভোগী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা।

. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাসস্থানের সমস্যা এখনও আমাদের দেশে থেকে গেছে। এই সমস্যাকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে সব গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দেশে কোনও গৃহহীন মানুষ থাকবে না- তিনি সেই ঘোষণা দিয়েছেন। ৭০ হাজারের মতো পরিবারের কাছে জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করে সেই ঘোষণা তিনি আজ বাস্তবায়ন করে চলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে আজ যারা ঘর পেয়েছেন তারা কখনও ভাবেনি এই ধরনের একটি জমির মালিকানাসহ দুই রুমের একটি ঘর উপহার পাবেন। এই অভাবনীয় কাজ আজ জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনা করেছেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে এভাবে একই দিনে ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়া উদ্বোধন হয়েছে কিনা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আগে ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ, এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। অর্থাৎ আমরা ক্ষুদাকে জয় করেছি। ভরদুপুরে কিংবা সন্ধ্যার পরে শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রাম গ্রামান্তরে- মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন, সেই ডাক এখন আর শোনা যায় না। কারণ বাসি ভাতের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে অনেক আগে। আজ কোনও ভিক্ষুক চাল ভিক্ষা নেয় না, কারণ চালের প্রয়োজন এখন আর নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। এরপরও কিছু কিছু ভিক্ষুক আছে। তবে শুধু ভিক্ষুক যে বাংলাদেশে আছে তা নয়, অনেক দেশে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ভিক্ষুক আছে। বাংলাদেশে যদি কেউ ভিক্ষুককে এখন দুই টাকা দেয়, ভিক্ষুক তাকে দুইটা গালি দেবে। পাঁচ টাকা দিলে আপাদমস্তক থাকিয়ে দেখবে, মানুষটা কেমন। লাল রঙের ১০টাকার নোট দিলে মোটামুটি খুশি হবে, তবে পুরাপুরি না। এই হচ্ছে আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে কোনও ছেঁড়া কাপড় পরা ও খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। আগে আমাদের দেশে বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় আসতো, সেগুলো ধোলাই করে হকার্স মার্কেটে বিক্রি হতো। সেগুলো কিনে আমরা পড়ে সাহেব সাজার চেষ্টা করতাম। আর এখন বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানি হয়, আর সেগুলো বিদেশের বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয় এবং সেগুলো পড়ে সেখানকার সাহেবরা তাদের সাহেবগিরি ঠিক রাখে। অর্থাৎ পরিস্থিতি এখন উল্টে গেছে।’

যারা ঘর পেয়েছেন তাদের উদ্দেশে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা যারা ঘর পেয়েছেন তারা কখনও চিন্তা করেননি জমিসহ এরকম একটি ঘর পাবেন। কিন্তু তারা ঘর পেয়েছেন। এটি কোন সরকার দিয়েছে সেটি মনে রাখতে হবে। এটি দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার, নৌকা মার্কার সরকার, এটি দেশের সবধরনের ভোটের সময়ও মনে রাখতে হবে। ভোটের সময় আসলে অনেক রকমের দল আপনাদের সামনে হাজির হবে। তাদের বলতে হবে, কখনও আমাদের খবর নাওনি, আবার এসেছো ধোঁকা দিতে? এমন করে তাদের জবাব দিতে হবে।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here