মোরেলগঞ্জে ৩০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৯টি প্রধান শিক্ষকসহ ২৩৮টি শিক্ষক পদ শূণ্য

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম::মোরেলগঞ্জ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায়  সরকারি ও নবসরকারি ৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূণ্য রয়েছে। একই সাথে ১৩৪টি বিদ্যালয়ে ১৬৯টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূণ্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে। আবার একই সাথে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে, শিক্ষক শূণ্য এসব বিদ্যালয়ে লেখা-পড়ার মান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৩০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ ও ১৩৪টি বিদ্যালয়ে ১৬৯টি সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। এরমধ্যে ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৪৮টি বিদ্যালয়ে ৬৭টি সহকারী শিক্ষক পদ এবং ১৬৫টি নবসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪টি প্রধান শিক্ষক ও ৮৬টি বিদ্যালয়ে ১০২টি সহকারী শিক্ষক পদ শূণ্য। সব মিলিয়ে ২৩৮টি শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য থাকায় এসব বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ক্রমান্ময়ে নিন্মগামী হচ্ছে বলে অভিভাবকরা মনে করছেন।

শিক্ষক শূণ্য থাকা বেশ কিছু বিদ্যালয়ে মাত্র ২জন করে শিক্ষক কর্মরত থাকায় ওই সব বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীকে ২জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়সমুহে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে দায়িত্ব পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফলে, দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ভারপ্রাপ্তরা। শিক্ষক শূণ্য থাকা বিদ্যালয়সমুহে পাঠদানে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, কারণ তাদেরকে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার যেসব বিদ্যালয়ে মাত্র ২জন করে শিক্ষক কর্মরত আছেন সেসব বিদ্যালয়ে ১জনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ওইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক শূণ্যতার কারণে অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ ও শ্রেনীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিক্ষকরা চাইলেও পাঠদানে মনোযোগী হতে পারেননা। ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কিছুই শিখতে পারছেনা। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গতি ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে শূণ্যপদসমুহ পূরণের দাবি জানান অভিভাবকরা।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের পদ শূণ্য থাকায় শ্রেনীতে পাঠদানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাদেরকে বাড়তি ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে থাকলে তার ক্লাসটিও নিতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক শূণ্য থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- কুমারিয়াজোলা সরারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খারইখালী  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ খারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব পুটিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চক পুটিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ অজিয়র স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ জোকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাড় কুমারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্শিবাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্শিবাওয়া কেজে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কচুবুনিয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধরাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এস,চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ.চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজৈর জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোগলাবুনিয়া বড়বাদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বি.পাঠামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলা চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিসি বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  পশ্চিম গাজিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক শূণ্য নবসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- এম.জি.মিত্রডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজী আজিজুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেরই বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচপাড়া সম্মিলিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চরহোগলাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কুরুপের দাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  চরক গাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটপড়ি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ.সুতালড়ী শাহজানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য গুয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খালকুলিয়া পলস্নীমঙ্গল বাদুরতলা ওয়াজেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজালিয়া মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ.সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশুরবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম পালেরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  দ.পুটিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডি.কে.সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চিপা বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ডেউয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প.বহরবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুমারিয়াজোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য খাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজিরঘাট এম.পি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উ.সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খারইখালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,   শ্রীরামকৃষ্ন আশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক  শিক্ষা অফিসার মো. আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা রয়েছে।এছাড়া প্রধান শিক্ষকদেরও পদায়নের ব্যাপাওে কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।আশা করি খুব শিগ্রই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চন্দ্রশিলা ছন্দার কবিতা ‘প্রাসাদ পিলার’

প্রাসাদ পিলার – চন্দ্রশিলা ছন্দা আমি যখন তোমাকে জড়িয়ে মাধবীলতা হই তুমি ...