বিএসএমএমইউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে চেয়ারে শুয়ে পড়েন নাসরিন। পাশে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে স্বামী জাহেদ স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছেন, ‘…কী করবেন, কোথায় নিয়ে যাবেন..?’ আক্ষেপ করে রাজু জানালেন, ‘নাসরিনের অক্সিজেনের মাত্রা কমে এসেছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তাঁর। এ মুহূর্তে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পারলে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়বে। এখানে আমি নিজে গিয়ে দেখে আসলাম, সিট ফাঁকা আছে, কিন্তু তারা ভর্তি নিল না। আমার ক্ষমতা বা অনেক টাকা থাকলে এখানেই সিট ম্যানেজ করতে পারতাম।’

সিট পাওয়া যাবে শুনে পরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে যাবেন। আবারও ওই একইভাবে স্ত্রী নিয়ে রওনা হলেন মহাখালীর উদ্দেশে। ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসক দেখে ভর্তি করাতে বলেন। অক্সিজেন সুবিধা ছাড়াই বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভর্তি হন নাসরিন।

আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম সেই করোনা রোগীর স্বামী আবদুর জাহেদের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটি সাধারণ শয্যা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তা যেন আর কারও না হয়।’

তবে তিনি আরো বলেন তার স্ত্রীর অবস্থা এখন আগের চেয়ে একটু ভালো আছেন। তার চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা নিয়মিত ঔষধ দিচ্ছেন এবং দেখাশুনা করছেন অন্যরোগীদের মতোই।

সবার কাছে তার স্ত্রীর জন্য দোআ চাইলেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here