আবু হোসাইন সুমন,মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ::
বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে মোংলার কানাইনগর গ্রাম। এছাড়া বাঁধ না থাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারে  পশুর নদীর পানি উপচে পড়ে তলিয়ে গেছে চিলা ইউনিয়নের চিলা, সুন্দরতলা, জয়মনিসহ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়াও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে জ্বলোচ্ছাসে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর, কালিকাবাড়ী ও মালগাজী গ্রামের বাসিন্দারা। 

চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙ্গে বসতবাড়ীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কানাইনগর গ্রামের। সেখানে লোকজনের ঘরের মধ্যে পানি। লোকজনে কেউ ঘরের খাটের উপর আবার কেউ কেউ রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। ভাটা হলে পানি নেমে গেলে তারা ঘরে ঢুকবেন। আর পানি তলিয়ে ঘের ও ধানের বীজতলা ডুবে ক্ষতি হয়েছে মালগাজী ও কালিকাবাড়ী গ্রামের। তিনি আরো বলেন, চাঁদপাই, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন নদীর পাড়ে হওয়াতে এ তিন ইউনিয়নেই জ্বলোচ্ছাসে ক্ষতি বেশি হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, কয়েকদিনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি তো একটু হয়েছেই, তবে সেটি পরে জানাবো হবে বলেন তিনি।

এদিকে চিংড়ি ঘের ও বাড়ীঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর রানা ও উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলামকে বার বার ফোন দিলে গত কয়েকদিন ধরেই (দুর্যোগকালে) তারা ফোন রিসিভ করছেন না।

এদিকে সোমবারও প্লাবিত হয়েছে সুন্দরবন। বনবিভাগের দুবলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার ও করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সোমবারের জোয়ারেও সুন্দরবন প্লাবিত হয়েছে, তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে।
মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী বলেন, লঘুচাপটি ওড়িষ্যা উপকূলে স্থল নিম্নচাপে রুপ নিয়েছে। এর ফলে সোমবারও মোংলাসহ উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। সোমবারও উপকূল জুড়ে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হবে। সেই সাথে অস্বাবাবিক জোয়ারের চাপও থাকবে। আশা করা যাচ্ছে মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here