ব্রেকিং নিউজ

“মেয়ে না মেয়ে মানুষ”

বোরহান উদ্দিন

লেখক- বোরহান উদ্দিন

বোরহান উদ্দিন :: বিষয়টা বিতর্কিত কি না জানি না। তবে, আমি বিশ্বাস করি মেয়ে বা নারীরাও মানুষ। কিছু দিন আগে আমার এক নারী সহকর্মীকে কথার প্রসঙ্গে মেয়ে মানুষ বলাতে ওনি আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিজে বলে গেলো। তাই আজ ওনার এবং সকল মানুষের উদ্দেশ্য লেখা।

প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দল, বিএনপি চেয়ারপার্সন, আইন ও শালিস কেন্দ্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, গণমাধ্যমের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নারী হওয়ার পরও যদি একজন বা হাজার-হাজার নারীকে প্রতি দিন নির্যাতনের কিংবা হত্যার শিকার হতে হয়। আমি বলতে চাই নারীকে প্রতি দিন নির্যাতন প্রথম নারীদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে আওয়াজ তুওলতে হবে, অধিকার আদায়ের জন্যও এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনায় ফিরে আসি, ছেলের পক্ষ বিয়ে করাতে যান তখন সুন্দরী মেয়ে খোঁজেন। কালো মেয়ে কি মানুষ না। যত দিন না এক জন নারী হয়ে, অন্য নারীদের কে মানুষ হিসাবে সম্মান করতে না পারবেন। ততো দিন বদলাবার আশা করা বোকামি।

গত কয়েক বছর পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা মেয়েরা কোথায় হারিয়ে যায়, কখনো চিন্তা করেছেন?

এক জন নারী ধর্ষণের শিকার হলে বলি তার পোশাকে সমস্যা ছিলো। আমি যদি তাকে ভোগ্যপণ্য মনে না করি তাহলে পোশাকে কি আসে যায়। মানুষ মনে করলে হিসাব কিন্তু পরিস্কার। এমনিতেই নারী ও শিশুদের অপমৃত্যু বা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি খবর তো সংবাদপত্রে ভেতরের পাতায় এক কলামে জায়গা হয়। পুরুষশাসিত সমাজ আমাদের এমন চিন্তা করতে বাধ্য করে যে, নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে সে তো ধর্ষিতা। সব দোষ নারীর। আর পুরুষরা নিম পাতা। আর যখন নারীটি ধর্ষণ হয়ে মানসিক চাপ নিয়ে ঘরে ফিরেন, তখন তাকে ঘরে তুলে নেওয়া হয় না! কোনো তিনি কি মানুষ না? তার তো কোন দোষ ছিলো না। তারপরও কেন তার সাথে এমন আচরণ করা হয়?

যদি আমরা সত্যি মেয়ে বা নারীদের কে মানুষ ভাবি, তাহলে আমাদের মা-বোনরা রাস্তাঘাটে এতটা অসহায়ত্ব বোধ করতো না। আমরা যদি মেয়েদের মানুষ ভাবতাম তাহলে আজ তারা ঘর থেকে অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সব জায়গাতে কিছু পুরুষ নামের পশুদের লাঞ্চনার স্বীকার হতো না। কারণ আমাদের মনে নারীদের প্রতি সম্মান নাই। তারা যে মানুষ আমার তাই ভুলে গেছি ।

প্রায় সময় রাস্তায় কিছু ভাইয়াদের কে বলতে শুনি “দেখ দোস্ত মালটা সেই রকম”। সেই ভাইয়াদের জন্য অনেক কষ্ট হয়। কারণ আপনাকে যে জন্ম দিয়েছে আপনাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী সেও “মাল” । ঘরেই যখন “মাল” আছে, তো রাস্তায় কেন?মাল যদি দেখতে ইচ্ছে করে তো ঘরেই থাকুন। তাই বলি নারী বা মেয়েরাও মানুষ। দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে।

 

ইতিহাসসংযুক্ত:

১৮ শতকে রাষ্ট্রের আইন, সামাজিক বিধিনিষেধ, ধর্মীয় বিবেচনা, অর্থনৈতিক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, দাসপ্রথা ও সতীত কারণে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হন নারীরা ।

উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সতীদাহ প্রথা, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও নারীদের অধিকার আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। এতে তারা আত্মশক্তি খুঁজে পেতে থাকেন।

নারীশিক্ষার গুরুত্ব ও বিকাশ ১৯ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা যায়। এই সময় থেকে নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে থাকে। সামাজিক অত্যাচার, বিধিনিষেধ, প্রথা, পশ্চাৎপদতা যা নারীকে মুক্ত করার জন্য সেই সময়ে সমাজে ব্যাপক আলোচনা, উদ্যোগ ও আন্দোলন শুরু হয়। এর ফলে নারীর সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের বিকাশ ত্বরান্বিত হয় ।

২০ শতক নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠার যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই শতকে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।

আর ২১ শতকে এসে এই বাংলাদেশেও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে  আছে। তাহলে ১৯ শতক নারীদের মানুষ চিন্তা থেকে আজ এই অবস্থানে আসতে পারলাম। কিন্তু এখনো মেয়ে বা নারীদের পুরোপুরি মানুষ না ভাবতে পারায় আজও নারী প্রতি নির্যাতন কমানো যাচ্ছে না।

নারী-পুরুষের সমতা ভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবখানে মেয়েদের মানুষ হিসাবে সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শেষ কথা হচ্ছে, নারীদের মানুষ হিসাবে দেখুন, বাজারের পণ্যাদি নয়!!!

 

 

 

লেখক: সমাজ উন্নয়ন কর্মী ও সংগঠক।  borhan.2012@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এপ্রিল ফুলঃ একটি অমীমাংসিত ইতিহাস

আরিফ হোসেন :: “এপ্রিল ফুল” সারাবিশ্বে পালিত বহুল প্রচলিত কয়েকটি দিবসের মধ্যে ...