কপির জমিতে বসে মাথা ধরে কাঁদছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী। বিশ হাজার টাকা ঋণ করে সার-বিষ কিনে ফুল কপির চাষ করেছিলেন তিনি। এক টাকা কেজি দরে কপি বিক্রি করে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আসবে তার। যার শ্রমের খরচই হবে না। ঋণের টাকা কি করে পরিশোধ করবেন তা ভেবে দিশেহারা তিনি। বুধবার সকালে সাহারবাটি গ্রামের মাঠে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। শুধু আব্বাস নয়, মেহেরপুর জেলার হাজার হাজার কপি চাষির এ অবস্থা। অনেকে জমির কপি গরু-ছাগল দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। বাজার দর কমে যাওয়ায় মেহেরপুরের কৃষকেরা কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, চার বিঘা জমির ফুল কপি ফুটে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। কারণ কপি কাটার মজুরী আর পরিবহণ খরচ উঠছে না। চার বিঘা জমিতে কপি চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় নব্বই হাজার টাকা।

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের চাষি জিয়াউল ইসলাম বলেন, বরিশাল বাজারে কপি পাঠিয়ে ঘরের ধান বিক্রি করে গাড়ি ভাড়া দিতে হয়েছে। জমির লিজ খরচ আর সার-বিষের দোকানের ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না। একই গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, তিনি একই সাথে ফুল কপি, পাতা কপি ও মুলার চাষ করেছিলেন। ভাবছিলেন পাতা কপির লোকসান ফুল কপি থেকে পুষিয়ে নেবেন। তাতেও লোকসান। ফুল কপির লোকসান মুলা থেকে উঠবে বলে ভাবছিলেন। কিন্তু তারও কোন খরিদ্দার নেই। ফলে এ বছর তার চাষে বিনিয়োগের পুরো টাকায় লোকসান।

উজলপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন বলেন, ট্রাক লোড করে বরিশাল, সিলেট, খুলনা বাজারে কপি পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। বার বার লোকসান দিয়ে এখন তিনি পুঁজি হারাতে বসেছেন।

মেহেরপুর শহরের কাঁচা বাজারের কমিশন ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, বর্তমানে এক থেকে দুই টাকা কেজি দরে পাতা কপি ও ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পঞ্চাশ পয়সা কমিশন যাবে, আড়তের লেবার খরচ আছে, পরিবহণ ভাড়া যাবে আরও পঞ্চাশ পয়সা। ফলে কৃষকের পরিশ্রমের টাকা উঠছে না। উৎপাদন বেশি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মেহেরপুর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন খান বলেন, চলতি শীত মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় তিন হাজার হেক্টর কপি রয়েছে। ভরা মৌসুমে একই সময় কপি বাজারে উঠায় বাজার দর পড়ে গেছে। কিছু সময় পার হলে আবারও বাজার দর উঠবে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া যারা আগাম কপি বাজার জাত করেছে, তারা এক বিঘা কপি বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছে। তিনি আরও জানান, সবজি খ্যাত জেলা মেহেরপুরে সবজি সংরক্ষণের কোন  ব্যবস্থা নেই। থাকলে চাষিরা ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/রামিজ আহসান/মেহেরপুর

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here