মেলায় আমাদের বই

রহিমা আক্তার মৌ

রহিমা আক্তার মৌ :: চলছে অমর একুশে বইমেলা ২০১৯, বইমেলা শুরুর আগে থেকেই সবার অপেক্ষা বইমেলার এই মিলনমেলার জন্যে। ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের অস্তিত্ব, ফেব্রুয়ারি মানেই মায়ের ভাষা, ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের মুখের বুলি অ আ ই ঈ। বছর জুড়ে নতুন বই প্রকাশ পেলেও অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত প্রায় সব বই । বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি নতুনদের বইয়ের প্রচার হয় কম। অধিকাংশ পত্রিকা প্রবীণ ও সিনিয়ারদের বইয়ের আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত।

আর নারীদের বইয়ের প্রচার তো কমই, নতুন নারী লেখক হলেতো আরো কম। তাই মেলায় আমাদের বই নিয়ে এই আয়োজন। অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ আমার কয়েকটি বই আসছে। অনুগল্পের বই ‘অল্প স্বল্প গল্প’ শিশুতোষ গল্পের বই ‘প্রিয়ন্তির সারাবেলা’ এই বই দুইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, প্রচ্ছদ করেছেন মৌমিতা কর মৌ। ‘বেলা শেষের গদ্য’ বইটি ১৪ টি গল্পকে একমলাটে পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছে  ঊষার দুয়ার প্রকাশনি, প্রচ্ছদ করেছেন রাজিব চৌধুরী।

শিশুতোষ গল্পের বই ‘গল্পগুলো তুলতুলির’ বইটি প্রকাশ করেছে দাঁড়িকমা প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন ফকির আল মামুন। দ্বীপজ পাবলিকেশন্স থেকে ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’ নামে দুইটি চিঠির বই সম্পাদনা করেছি আমি। বই দুটিতে রয়েছে ৮৫ টি চিঠি। মেলায় অন্য যাদের বই আসছে তাদের কয়েকজনের সাথে কথা হলো। নিজেদের বই নিয়ে উনারা যা বলেছেন-

তাহমিনা তানি পেশায় সাংবাদিকতা, পাশাপাশি নাটকের স্ক্রিপ্ট ও চিত্রনাট্য লিখেন। উনার গল্পগ্রন্থ , “নীলরঙ ভালোবাসা” বইটি প্রকাশ করেছে প্রিয়মুখ প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন মো. রায়হান উদ্দিন ফকির। নিজের বই নিয়ে লেখক তানি বলেন, “নীলরঙ ভালোবাসা” আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ, লেখক হয়ে উঠার প্রথম স্মারক বলা যায়। গল্প লিখতাম, তবে আমি আসলে ভাবিনি, বই বের করবো। ‘লিখব যা বলতে চাই’ নামে একটা গ্রুপে লিখতাম,  সেখানেই আমার পাঠক তৈরি হয়। গ্রুপের এডমিনসহ অন্যান্য সদস্যরা বেশ পছন্দ করেন আমার গল্পগুলো। পূর্ব ঘোষিত গ্রুপে  বছরের সেরা গল্পকারের এবং সেরা কবির বই বের করবে ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’। প্রকাশকের ঘোষণায় নিজের নাম দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। যাক আল্লাহর অশেষ রহমত, আর পাঠকদের ভালোবাসায় সম্ভব হলো বইটি প্রকাশ করা। কৃতজ্ঞতা প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদ ফারুক ভাইকে।’

রানী সিদ্দিকা ইয়াসমিন পেশায় একজন মানুষ গড়ার কারিগর(শিক্ষক), শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেন। ‘বৃত্তভাঙা চাঁদের জোছনা’ উনার গল্পগ্রন্থ। মহাকাল প্রকাশনী বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। নিজের বই সম্পর্কে ইয়াসমিন বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে সামাজিক প্রেক্ষাপট পাল্টেছে, কিন্তু আমাদের মন ও মানসিকতা তেমন একটা পাল্টায়নি। আর এই দুর্বল মানসিকতার জন্য আমরা নিজেরাই যেন কিছুটা দায়ী। আমরা প্রতিবাদ করতে শিখিনি। কেউ কেউ প্রতিবাদ করে উঠলে সমস্বরে তাকেই দোষী সাব্যস্ত করার জন্য উঠিপড়ে তার পেছনে লাগি। ” বৃত্তভাঙা চাঁদের জোছনা” গল্পের বইটি, সমাজের সেই সব ঘটনার প্রতিচ্ছবি। বইটির গল্পগুলো যেন, আমাদের-ই কোনো না কোনো ঘরের ঘটে যাওয়া ঘটনা। যেখানে নারীর ইচ্ছের কোনো দাম নেই। নেই দাম প্রেম ভাোবাসার। তবুও নিরন্তর স্বপ্ন দেখছে মানুষ, জীবন গুছাতে জীবন সাজাতে।

২০১৯ বইমেলায় পাঠকের জন্য শেখ সুমাইয়া সুলতানার বই “কিছু বলতে চাই”। বইটির এই ম্যাগনেটাইট নামকরণ করেছেন শ্রদ্ধেয় কবি ও আবৃত্তিশিল্পী  একান্ত চৌধুরী রানা। বাবুই প্রকাশনীর বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সুলাইমান সাদী। বই সম্পর্কে
সুমাইয়া বলেন, ‘বইটিতে ধর্ম, রাষ্ট্র এবং সামাজিক বিষয়াবলী নিয়ে ছোট ছোট বাণী লেখা। শত ব্যস্ততার ভিড়ে বিবেকের তাড়নায় লেখা কিছু বাণী তুলে ধরেছি। মুলত প্রথম বই কবিতার বইয়ের জনপ্রিয়তা দেখেই এবার বই করা। অনেক ক্ষেত্রে আমরা নারীরা অবহেলিত, এটা ব্যক্তি বিশেষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও। তাই নিজের মতো করে সাজিয়েছি বইটি।’

মেহবুবা হক রুমা ‘র কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সতেরো’ আসছে অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ। জাগৃতি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী মায়িশা ফওজিয়া হক। নিজের কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সতেরো’ নিয়ে রুমা বলেন, ‘ষোলো সালের কিছু নির্বাচিত কবিতা নিয়ে বইটি মলাট বন্ধি করা। সাত সতেরো বইটিতে আছে আমার সতের সালের লেখা ১৫০টি কবিতা থেকে বাছাইকৃত কিছু উল্লেখযোগ্য প্রিয় কবিতা। সাত সতেরো শুধু আমার কবিতার বই নয়। আমার সাত রঙের স্বপ্ন। সাতটি ধারায় সাতটি করে কবিতা আর আত্মজার শৈল্পিক ছোঁয়া দিয়ে সাজিয়েছি আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ সাত সতেরো। বলা যেতে পারে মা কন্যার যুগলবন্দী এই বইটি। কবিতা আমার হলেও প্রচ্ছদ করেছে মেয়ে মায়িশা ফওজিয়া হক। কন্যার হাতের ছোঁয়ায় যে গভীর আনন্দ অনভূত হচ্ছে আমার হৃদয়ের গহীনে। আশা রাখি ষোলোয় ষোড়শীর মতো এবারও আমার প্রিয়জনদের ছোঁয়া পাবে আমার ‘সাত সতেরো’

মেহেরুন নেছা রুমা, পেশায় লেখক ও সাংবাদিক। নালন্দা প্রকাশনী থেকে আসছে উনার গল্পগ্রন্থ “রাত্রি শেষের নির্জনতা” প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

নিজের বই নিয়ে রুমা বলেন, ‘গল্পের প্রতি ভালোবাসা, আর ভালোবাসার গল্প আমার। সময়ের ভালো কিংবা মন্দ দিক নয়। সময় তো কেবল গল্প বয়ে বেড়ায়। জীবনের প্রভাতে জেগে ওঠা মনও কি জানতে পারে শেষ বিকেলের মন তার কি চায়! যে গল্প একাকী দুপুরের রোদ্দুর পেরোয়, বিকেলের হলদে নীল ছায়ায় বেড়িয়ে পড়ে অজানায়, আর রাত্রি শেষের নির্জনতায় খুঁজে ফেরে জীবনের মানে। সেইসব গল্পেরা আসর জমায় জীবনের আস্তানায়। চেষ্টা করেছি তেমনি কিছু গল্পের আসর জমাতে আমার বইতে। এটি আমার ৯ম বই।’

সাদিয়া তাজিন, চট্টগ্রামের এনজিও সংস্থা ‘ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন – ইপসা’য় কর্মরত। ছোট বড়, অনুগল্পসহ ১৪টি গল্পের সমাহারে অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ রচিত হয়েছে উনার বই ”গল্পগ্রন্থ দহন বেলা। বই সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, ‘সমাজে অনেক পরিবার আছে যারা মেয়েকে প্রবাসী পাত্রের কাছে পাত্রস্থ করতে পারলে খুশী হন। অনেকে প্রবাসীর বিত্তশালীতার কাছে বশ্যতা স্বীকার করে। বিয়ের পর পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে স্বামীর শারীরিক, মানসিক সহিংসতার শিকারে মেয়েটি হতবিহবল, হতাশা, বিভক্তি আর অজানা আশংকায় বিপর্যস্ত হন। সে কঠিন দু:সময়ে একজন নারী নিজেকে চৌহাদ্দীর অন্তরাল থেকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে, পূর্ব প্রেমিকের কাছে ফিরে যেতে চায়, তার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে দহনবেলা গল্প গ্রন্থে। কিভাবে গোটা পরিবার, সমাজকে দিতে হয় ভুলের মাশুল। সমাজের নিষ্ঠুর এক বাস্তবতার চিত্র দহনবেলা। সমাজের অনালোচিত, অন্ধকার ও স্পর্শকাতর দিকটি ফুটে উঠেছে দহন বেলায়। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মৌমিতা কর মৌ। গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হচ্ছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন থেকে।’

সাহিদা সাম্য লীনা, পেশায় সাংবাদিক। অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ প্রকাশিত হয়েছে উনার প্রথম কবিতার বই “একবার বলে দাও”। সাহিত্যদেশ প্রকাশনি থেকে বইটি প্রকাশ পাচ্ছে, প্রচ্ছদ করেছেন প্রিন্স ঠাকুর। বই সম্পর্কে লীনা বলেন, ‘বইটা প্রকাশ করতে অনেক সময় লেগে গেল নানা সংকটময় কারণে। সব লেখকই তার বইকে সন্তান বলে অবহিত করে। আমারও কটি সন্তান রয়েছে। তবে এ বইটাকে আমি বন্ধু বলছি। বই এর প্রায়ই  কবিতা প্রেম, ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে। তাই সে আমার অকৃত্রিম ভাললাগা, ভালবাসা। আমার মনে হয় “একবার বলে দাও” বইটি ভালো লাগবে টিনএজ হতে শুরু করে তরুণ তরুণী, বয়োবৃদ্ধ সবার।’

লেখক- সাহিত্যিক কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক।
[email protected]

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিয়ে করলে টাকা দেবে সরকার!

ডেস্ক নিউজ :: বিয়ে করলেই নবদম্পতি সরকারের কাছ থেকে আর্থিক পুরস্কার পাবেন! ...