মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার :: শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবরগুলো সংরক্ষণ করার বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ত্রিশ লাখ শহীদদের চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তী সময়ে পরলোকগত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করা হবে। ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের গৃহীত এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে কোনো মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে তালিকায় অন্ত্মর্ভূক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

শেখ হাসিনা জানান, এ তালিকার অংশ হিসেবে ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ঠিকানাসম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, গেজেটভূক্ত সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভূক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের আরেক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে তার সরকার পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যমআয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করেছিল। এ রূপকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ দারিদ্র্য উলেতখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’-এ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। যার স্লোগান হচ্ছে ‘আমার গ্রাম- আমার শহর’। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষয় সরকার ব্যপক কার্যক্রম নিয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা হচ্ছে, ‘সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন এবং সবার উন্নয়ন’। এ আদর্শ সামনে রেখে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন ও ধনী-গরীবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র, ২০১৫’ প্রণয়ন করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাছিমা বেগম জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব ...